রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’তে এক শিশুকে বেধড়ক মারধরের ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও অ্যাডমিন অফিসার পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার সকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মিরপুর থেকে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পল্টন মডেল থানায় শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করা হয়। মামলায় শারমিন একাডেমির প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান এবং তার স্বামী ও বিদ্যালয়ের অ্যাডমিন অফিসার পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আসামি করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি গ্রেপ্তারসহ মূল রহস্য উদঘাটন, আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাই, এই ধরনের অপরাধ অন্য কোনো বাচ্চার সঙ্গে ঘটিয়েছে কি না জানা এবং শিশুটির সঙ্গে অমানুষিক নির্যাতনের কারণ জানা এবং উদ্ঘাটনের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
তবে শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ রিমান্ড আবেদনের শুনানির তারিখ ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বলেন, রিমান্ড আবেদন করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এসআই মো. নুর ইসলাম আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক শুনানির নতুন তারিখ রাখেন।
আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পবিত্র কুমার। কয়েকজন সাংবাদিক তখন তার কাছে শিশু নির্যাতনের কারণ জানতে চান।
জবাবে পবিত্র কুমার বলেন, “পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে ঘটনাটা ঘটেছে। বিষয়টিকে ভাইরাল করার জন্য যেভাবে নির্যাতনের কথা বলা হচ্ছে, ওইভাবে তাকে মারা হয়নি।”
পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী চার বয়সী শিশুকে গত ১৯ নভেম্বর শারমিন একাডেমির প্লে শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। গত ১৮ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১:২০ মিনিটে ভুক্তভোগী শিশুর মা শিশুটিকে স্কুলে রেখে আসেন । দুপুরে শিশুটিকে আনতে গিয়ে দেখেন স্কুলের প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান তার অফিস কক্ষে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধরে রেখেছেন এবং সেখানে তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
শিশুটিকে ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বাসায় ফিরে শিশুটি জানায়, তাকে ভীষণ মারধর করা হয়েছে এবং বিষয়টি অভিভাবককে জানালে গুরুতর ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সংগৃহীত ফুটেজে শিশুটিকে অফিস কক্ষে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করার দৃশ্য দেখা যায়।
ঘটনার পর শিশুটির মাথা, গলা ও কানে ব্যথা দেখা দিলে তাকে প্রথমে নয়াপল্টন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষে ঢোকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজনের কাছে অভিযোগের মতো কিছু বলছে বলে মনে হচ্ছে।
সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তিটি একটি ‘স্ট্যাপলার’ হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মুখে ‘স্ট্যাপল’ করে দেওয়ার ভান করে কয়েকবার চেপে ধরেন। ওই পুরুষ ব্যক্তিটি হাতের ইশারা দিয়ে শিশুটিকে বার বার থামতে বলছিলেন।
একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তিটি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১ টার দিকের। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন।








