সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে গাইবান্ধার একজন স্কুল শিক্ষিকা ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন। ভিডিওতে এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় সাহায্য প্রার্থনা করতে দেখা যায়। কিন্তু যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া।
রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ জানিয়েছে, রিভার্স ইমেজ ও ভিডিও সার্চের মাধ্যমে জানা যায়, উক্ত ভিডিওটি প্রথম প্রচারিত হয় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। তখন রিউমার স্ক্যানারের ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে এই দাবিকে স্পষ্টভাবে ভুয়া বলে উল্লেখ করে বলা হয়, ভিডিওটির উৎস হলো আলী তানজুম সরকার নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাতে প্রচারিত একটি ১৫ সেকেন্ডের লাইভ।
পরের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকালে একই নারী আরেকটি লাইভে এসে স্পষ্টভাবে বলেন, আসসালামু আলাইকুম! কালকে আপনারা সবাই দেখছেন যে একটা ভিডিও আপলোড হয়ে গেছিলো। তো পারিবারিক একটা ব্যাপারে আমি আমার মাথায় আঘাত করাতে, হঠাৎ আমি জানি না কীভাবে ভিডিওটা আপলোড হয়ে গেছে। আমি কিছু বলতেও পারি নাই। তো এখন আমি ভালো আছি। যদি কেউ ভুলভ্রান্তি ভাবে নিয়া থাকেন আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন। আমি এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
‘চ্যানেল এ ওয়ান’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, আহত নারীর নাম নুসরাত তানজুম। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বাসিন্দা। নুসরাত তানজুম ও তার স্বামীর বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে। পারিবারিক বিরোধের কারণে নুসরাত নিজেই পানির গ্লাস দিয়ে মাথায় আঘাত করে আহত হন। এই ঘটনার পর তিনি শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ জানায়, আলোচিত ভিডিওর নারী গাইবান্ধার কোনো স্কুল শিক্ষিকা নন এবং তিনি ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকারও হননি। এটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের কারণে নিজের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা। পুরনো ভিডিওটিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

