ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অলরাউন্ডার মারলন স্যামুয়েলস ছয় বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) দুর্নীতিবিরোর্ধী কোড ভাঙার অভিযোগে তাকে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। গত ১১ নভেম্বর থেকে তার এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।
গত আগস্টে স্যামুয়েলসের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। অভিযোগগুলো ২০১৯ সালে আবুধাবি টি-১০ লিগের সাথে সম্পর্কিত, যেখানে তিনি কর্নাটক টাস্কার্স দলে ছিলেন। আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের একটি স্বাধীন দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনাল বিচারে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
৪২ বর্ষী সাবেক উইন্ডিজ টপঅর্ডার ব্যাটার চারটি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২০১২ ও ২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্য ফাইনালের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী সেই চারটি ধারা হল- ২.৪.২, ২.৪.৩, ২.৪.৬ এবং ২.৪.৭।
ধারাগুলো অনুসরণ করে বলা হয়েছে-
২.৪.২ ধারা অনুযায়ী- অর্থ, আতিথেয়তা, কোনো রকমের উপহার বা অন্য সুবিধা গ্রহণের তথ্য নিয়োগকৃত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার কাছে প্রকাশ না করে ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে।
২.৪.৩ ধারার অভিযোগ- স্বীকৃত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার কাছে আতিথেয়তা বা ৭৫০ বা তার বেশি ইউএস ডলার গ্রহণের তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতা।
২.৪.৬ ধারায় অভিযোগ ছিল- স্বীকৃত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে তদন্ত পরিচালনায় সহযোগিতা না করা।
এবং, ২.৪.৭ ধারার শেষ অভিযোগটি হল- তদন্তে স্বীকৃত কর্মকর্তাকে সহযোগিতায় ব্যর্থতা ও তথ্য গোপন করে স্বীকৃত কর্মকর্তার তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত করা।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ প্রদান করা হয়। স্যামুয়েলসও তার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছিলেন বলে জানিয়েছিল আইসিসি।
আইসিসি এইচআর অ্যান্ড ইনটিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল জানিয়েছেন, ‘স্যামুয়েলস প্রায় দুই দশক ধরে ক্রিকেট খেলছেন এবং অসংখ্য দুর্নীতি বিরোধী সেশনে অংশ নিয়েছেন। দুর্নীতিবিরোধী কোড ভাঙায় তার বাধ্যবাধকতা কী ছিল, তা তিনি জানতেন। যদিও তিনি এখন অবসরে। যখন এগুলো করেছিলেন, তখন তিনি খেলছিলেন। যারা নিয়ম ভাঙার কথা চিন্তা করেন, ছয় বছরের নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা।’
দুর্নীতির দায়ে দ্বিতীয়বার শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন স্যামুয়েলস। এর আগে ২০০৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি দুই বছর নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, সাবেক ক্যারিবীয়ান ক্রিকেটার টাকা বা সুবিধা গ্রহণ করে ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।
ডানহাতি মারকুটে সাবেক ব্যাটার ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি ৭১ টেস্ট, ২০৭টি ওয়ানডে এবং ৬৭টি টি-টুয়েন্টি খেলেছেন। সবমিলিয়ে করেছেন ১১ হাজারের বেশি রান। তার নামের পাশে ১৭টি শতক রয়েছে।








