চলতি মৌসুমে শুরুটা ভালো করলেও মাঝপথে ফর্ম হারিয়েছেন মোহাম্মেদ সালাহ। টানা তিন ম্যাচে মিশরীয় তারকাকে রাখা হয়নি মূল একাদশে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দলেও তাকে রাখেননি কোচ আর্নে স্লট। এরপর কোচ ও সালাহর মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। সবশেষ ব্রাইটনের বিপক্ষে ফিরলে কোচের সঙ্গে আলোচনা ও সমাধানের একটা ইঙ্গিত ছিল। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে খবর, সেই ম্যাচ লিভাপুলের হয়ে শেষ ছিল সালাহর।
চলতি মৌসুমে ২০ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন সালাহ। এমন ফর্মের পর উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়টি মানতে না পেরে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন ৩৩ বর্ষী তারকা। বলেছিলেন, লিভারপুলে তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে এবং কেউ একজন চান না তিনি ক্লাবে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। স্লট বিতর্কের আগুন বেশি বাড়তে দেননি যদিও। সালাহর সঙ্গে কথা বলে দলে ফিরিয়ে আনেন। শেষ ম্যাচে ২৬ মিনিটে জো গোমেজ চোটে পড়ায় বদলি হয়ে মাঠে নেমে সালাহ অবদানও রাখেন একটি গোলে।
সেই ম্যাচে ২-০তে জয়ের পর মাঠে দাঁড়িয়ে অ্যানফিল্ডের চারদিকে ঘুরে দর্শক অভিবাদনের জবাব দেন সালাহ। তাকে নিয়ে মাঠে থাকা দর্শকরা ধরেন গান। মাঠের সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে টানেলে ঢোকার আগে সালাহ একবার মুখটা ঘুরিয়ে তাকান অ্যানফিল্ডের ঘাসে। তারপর দৃষ্টি সরাসরি যায় প্রধান স্ট্যান্ডে। সেখানে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সালাহ একটু হাত নাড়েন। অনেকটা বিদায়ের মতো করে।
মাঠের এমন ঘটনা নিয়ে আলোচনা বাড়ে সালাহকে ঘিরে। ২১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলা আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সে (আফকন) খেলতে মিশর দলে যোগ দেবেন তিনি। লিভারপুল কোচ স্লটের আশা, আফকন খেলে সালাহ ফিরবেন অ্যানফিল্ডে। কিন্তু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দাবি, ব্রাইটন ম্যাচ শেষে লিভারপুল সমর্থকদের প্রতি সালাহর আবেগতাড়িত অঙ্গভঙ্গি এবং মাঠে ‘ল্যাপ অব অনার’–এর অংশ হওয়াটা লিভারপুলকে বিদায় বলার ইঙ্গিত হতে পারে।
মিশর দলের দায়িত্ব শেষে সালাহকে অ্যানফিল্ডে দেখতে চান কিনা, এ প্রশ্নে স্লট বলেছেন, ‘হ্যাঁ (তাকে ফিরে পেতে চাই), সে লিভারপুলের খেলোয়াড় এবং যখনই (খেলার জন্য) প্রস্তুত থাকে, তাকে প্রয়োজন মতো ব্যবহার করতে পছন্দ করি।’








