মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতে সংকট হতে পারে এমন আশঙ্কায় আগেভাগে গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পাম্পগুলোতে ক্রেতার চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, তেজগাঁও, আসাদগেট, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে পাম্পের ভেতরের লাইন সড়কের অর্ধ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কিছু পাম্পে জ্বালানি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার একটি ফিলিং স্টেশনে রাইডশেয়ারিং চালক কবির হোসেন বলেন, সাধারণত দিনে দুই থেকে তিনবার অকটেন নেন। কিন্তু লোকজন বলছে, দু’দিন পর তেল পাওয়া যাবে না। তাই পুরো ট্যাংক ভরে নিয়েছেন।
একই পাম্পের ম্যানেজার নজরুল আলম জানান, স্বাভাবিক সময়ে তাদের কাছে ২০ থেকে ২৭ হাজার লিটার তেল মজুত থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তা দ্রুত কমে গেছে। তাই আপাতত শুধু গাড়ির ট্যাংকে তেল দেওয়া হচ্ছে, আলাদা পাত্রে বিক্রি করা হচ্ছে না।
নিউমার্কেট এলাকার একটি পাম্পের কর্মীরা জানান, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গাড়ির চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ ছিল। মজুত কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা–১১টার পর অনেক পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তেজগাঁওয়ের একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মী আমিনুল বলেন, ডিপো থেকে গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় মজুত কমে গেছে। তাই কিছু সময়ের জন্য বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিলো। এখন আবার বিক্রি শুরু হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল এলাকার পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপোতেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শত শত ট্যাঙ্ক-লরির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তেল সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া এবং সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় ডিপোর ভেতর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লরির লাইন ছড়িয়ে পড়ে।
ডিপো এলাকায় অপেক্ষমাণ ট্যাঙ্ক-লরি চালক ইমরান বলেন, সকাল ৮টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, দুপুর পর্যন্তও তেল পাননি। আরেক চালক মেনন জানান, প্রায় এক কিলোমিটার দূরে লাইনে দাঁড়িয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মজুত তুলনামূলক কমে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিজেলের মজুত দিয়ে প্রায় সাত দিন, পেট্রোল দিয়ে প্রায় আট দিন এবং অকটেন দিয়ে প্রায় ১৪ দিন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।
বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও জাহাজ আসছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে পেট্রোল পাম্প মালিকদের একটি অংশ বলছে, গুজব ও আশঙ্কার কারণে অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিচ্ছেন। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে এবং কিছু পাম্পে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনার জন্যও গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।







