গত বছর অক্টোবরে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে এথনিক আর্মড গ্রুপগুলোর (জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী) সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বদলে যেতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরের পূর্ব তীরের ভূ-রাজনীতি। পড়শির বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আঁচ অনুভূত হচ্ছে বাংলাদেশেও। আরাকানের মাটি থেকে মায়ানমার সরকারের অনুগত সেনাবাহিনীকে হটানোর এই সর্বাত্মক যুদ্ধে সফলতার দ্বারপ্রান্তে রাখাইন জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি।
বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে থাকলে, তা কিভাবে সামলাবে বাংলাদেশ? বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মায়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা কি সসম্মানে ফিরতে পারবে নিজ দেশে? সামরিক উত্থানের পাশাপাশি বিশ্বকূটনীতিতে কতটা এগোলো আরাকান আর্মি? ইউরোপ-আমেরিকা ও এই অঞ্চলের অন্য দুই প্র্রভাবশালী দেশ ভারত ও চীনের সাথেই বা কেমন সম্পর্কে জড়িয়েছে আরাকান আর্মি? ওপেন সোর্সের ভিত্তিতে সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে যা পেয়েছি, তা এই লেখায় তুলে ধরছি।
আরাকান আর্মি কী?
আরাকান আর্মি হলো একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী, এরা মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সক্রিয়। এরা রাখাইন জাতিগত জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এবং তাদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করে।
আরাকান আর্মির পটভূমি
প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য: আরাকান আর্মি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো রাখাইন জনগণের জন্য অধিক স্বায়ত্তশাসন এবং স্বার্থ রক্ষা করা। এরা নিজেদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের দাবি এবং মায়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে স্বাধীনতা চায়। যদিও এরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আরাকানের স্বাধীনতা চায়নি।
সংঘাত ও কার্যক্রম: আরাকান আর্মি বিভিন্ন সময়ে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। তারা বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। এরা মায়ানমারের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: মিয়ানমার সরকার আরাকান আর্মিকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করে এবং তাদের কার্যক্রম দমন করতে বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালায়। আন্তর্জাতিক মহলে আরাকান আর্মির কার্যক্রম এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
পিডিএফের সাথে আরাকান আর্মির সম্পর্ক
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করার পর মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের নেতারা বিদেশে নির্বাসিত হয়ে একটি প্রবাসী সরকার (এনইউজি) গঠনের উদ্যোগ নেয়। সামরিক উপায়ে সামরিক সরকারকে হটানোর জন্য স্বাধিকারের জন্য লড়াইরত ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একটি ছাতার নিচে এনে জোট গঠন করে এর নাম দেয় পিপলস ডিফেন্স ফোর্স বা পিডিএফ।
আরাকান আর্মি (এএ) এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) সম্পর্ক জটিল এবং বহুস্তরীয়। দুটি দলই মিয়ানমারের সামরিক জান্তা, যা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল (এসএসি) নামে পরিচিত, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অংশ।
তবে তাদের সহযোগিতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং কৌশলগত স্বার্থের উপর নির্ভর করে। আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত নয়। তবে তারা প্রতিবেশী অঞ্চলে পিডিএফ এবং অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে গোপন সহায়তা প্রদান করে থাকে। এই সহায়তা সাধারণত কৌশলগত জোটের উপর ভিত্তি করে হয়, একক কমান্ড কাঠামোর উপর নয়।
থ্রি ব্রাদারহুড ও নাটকীয় উত্থান
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে, থ্রি ব্রাদারহুড এলায়েন্স নামে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে, যার মধ্যে আরাকান আর্মি, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং টা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি অন্তর্ভুক্ত।
এই অভিযানটি জান্তাকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে এবং প্রতিরোধ বাহিনীগুলোর মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে। পশ্চিমা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মায়ানমারের জান্তাবিরোধী এই উত্থানের জন্য চীনকে সন্দেহ করছে। চীনের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চীন এই গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সরবরাহের প্রধান উৎস। অতীতে চীন জান্তার সাথে একটি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু চীন তাদের নীতি পরিবর্তন করে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে আরও সমর্থন দেয়, যা অপারেশন ১০২৭-এর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
আরাকান আর্মির সাথে চীনের সম্পর্ক
আরাকান আর্মি (এএ) এবং চীনের সম্পর্ক সম্প্রতি ঘনিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন রাখাইন রাজ্যে তাদের বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো রক্ষায় আরাকান আর্মির দিকে ঝুঁকছে। চীন বুঝতে পেরেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্মা অ্যাক্টের পরিপ্রেক্ষিতে জান্তা সরকার এই বিনিয়োগ রক্ষায় ব্যর্থ হবে। প্রকল্পগুলো সুরক্ষিত করতে এরইমধ্যে এএ-এর সাথে আলোচনা শুরু করেছ বেইজ্ং।

বিশেষ করে কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পগুলো, যা চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ, আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত। চীন এবং মিয়ানমার প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিলম্বিত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চীন জান্তা ছেড়ে আরাকান আর্মির সাথে সখ্যতা গড়তে বাধ্য হয়েছে।
আরাকান আর্মির সাথে ভারতের সম্পর্ক
ভারতের সাথে আরাকান আর্মির সম্পর্ক মূলত কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। এই প্রকল্পটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মিয়ানমারে চলমান সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
আরাকান আর্মি ভারতের কালাদান প্রকল্পের সাথে কোন সমস্যা না থাকার কথা জানিয়েছে এবং তারা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও আরাকান আর্মির সাথে ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই, উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে।
মিজোরামের রাজ্যসভার সদস্য ক. ভানলালভেনা সম্প্রতি আরাকান আর্মির সাথে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। এই আলোচনা ভারতের দ্বিমুখী নীতির প্রমাণ দেয়। ভারত মিয়ানমারের সামরিক সরকার এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠী উভয়ের সাথেই যোগাযোগ বজায় রাখছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে জীবনরক্ষাকারী ওষুধসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের প্রধান রুট মিজোরাম। আরাকান আর্মি এই রুটেই চোরাইপথে পণ্য আনছিল। তবে সম্প্রতি তারা বাধার মুখে পড়েছে। ভারতে অবস্থানরত মায়ানমারের চিন জনগোষ্ঠীর তরুণরা পণ্য সরবরাহের রাস্তা বন্ধ করে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সাথে আরাকান আর্মির সম্পর্ক
বাংলাদেশ বারবারই বলে আসছে, ওপারের সংঘাত মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সরকারি পর্যায়ে এখন পর্যন্ত সব যোগাযোগ নেপিদোকেন্দ্রিক। আরাকান আর্মির সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের প্রশ্নই ওঠে না।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একমাত্র সফল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশ ও আরাকান আর্মির শীতল সম্পর্কের বরফ গলাতে পারে। এ কারণেই রাখাইন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের ম্যাপে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। স্টেকহোল্ডারদের বক্তব্য ও এ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে আলাপ করার পর আমার ব্যক্তিগত ধারণা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুকে টপ প্রায়োরিটি দিয়ে যখন রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন ইস্যুতে আরাকান আর্মির অবস্থান কী?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আরাকান আর্মির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ায় আরাকান আর্মির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে আরাকান আর্মি অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সুবিধা পেতে পারে। এতে তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে এবং প্রয়োজনীয় রসদ ও সমর্থন পাওয়া যাবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন ইস্যুতে আরাকান আর্মির অবস্থান
আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন বিষয়ে একটি জটিল ও বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সমান অধিকার ও নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে। তবে, বাস্তবে তাদের কার্যক্রম ও বক্তব্য পরষ্পরবিরোধী।
অপারেশন ১০২৭ এর পর মিয়ানমারের চিন স্টেটের প্যালেতোয়া, রাখাইন রাজ্যের বুথিডং, রাথেডং, মংডু এলাকার রোহিঙ্গা গ্রামগুলোর মধ্যে প্রায় ৩৫৪টি গ্রাম পুড়ে গেছে বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। অপারেশন ১০২৭ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় জনগণের ওপর এই হামলা এবং গ্রাম পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী রাখাইন জনগোষ্ঠী ‘রোহিঙ্গা’ জনগোষ্ঠীকে বাঙালি মুসলমান যাযাবর বলে দাবি করে। আরাকান আর্মির পতাকায় ৭টি তারকা চিহ্ন আরাকান অঞ্চলের ৭টি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। এই ৭টি জনগোষ্ঠী হলো আরাকানিজ (রাখাইন), চাকমা, ম্রো, দিনেট, কামান, কাইয়া (কায়া), চিন (আশো)। এখানে মায়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের রাখা হয়নি।

যদিও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে আরাকান আর্মি এবং তাদের রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে তারা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যকে পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং বেসামরিক প্রশাসনে নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি উদ্যোগ নেয়।
মোদ্দা কথা, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং রাখাইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বিরোধপূর্ণ। আরাকান আর্মি সাধারণত রাখাইন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে থাকে, তাই তারা রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল নয়।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরাকান আর্মির যা করা উচিত
বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে স্বার্থে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে আরাকান আর্মিকে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রেও রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে চলে আসবে। এ ক্ষেত্রে আরাকান আর্মি যা করতে পারে:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা
আরাকান আর্মি একটি সুস্পষ্ট এবং সংগঠিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে।
এ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরে তাদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা, যেমন জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনকে এই পরিকল্পনা প্রচার ও মনিটর করার জন্য আহ্বান করতে পারে।
রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ গ্রামে ফেরার অনুমতি
আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ নিজ গ্রামে ফেরার অনুমতি দিতে পারে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
বাংলাদেশ আরাকান আর্মির সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই অনুমতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে।
স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাহায্যে এই প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করা যেতে পারে।
রোহিঙ্গা নেতৃত্বের সাথে আলোচনা
আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা নেতৃত্বের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রাখাইনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে।
এই আলোচনা ভবিষ্যতের সংঘর্ষ এড়াতে সহায়ক হবে এবং আরাকান আর্মির মানবিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ সরকার এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে পারে এবং এই যৌথ পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করতে পদক্ষেপ নিতে পারে।
শেষ কথা
বাংলাদেশে সাথে আরাকান আর্মির সম্পর্ক উন্নয়নে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আরাকান আর্মির সহায়তা পেতে আগ্রহী এবং এক্ষেত্রে আরাকান আর্মি কার্যকর পদক্ষেপ নিলে তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। আরাকান আর্মি যদি একটি সুস্পষ্ট এবং সংগঠিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার অনুমতি দেয়, তাহলে বাংলাদেশের সাথে তাদের সম্পর্ক উন্নত হবে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনও সম্ভব হবে।
রোহিঙ্গা ও রাখাইন সংকট নিয়ে যারা কাজ করছেন, এমন অনেকেই মনে করেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ইস্যুতে আরাকান আর্মির ইতিবাচক ভূমিকা রাখাই দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করতে সহায়ক হবে। এ ধরনের পদক্ষেপে আরাকান আর্মি শুধুমাত্র রাখাইন অঞ্চলে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করবে না, বরং আন্তর্জাতিক মহলে একটি গ্রহণযোগ্য এবং মানবিক চেহারাও তুলে ধরবে।
তাই, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আরাকান আর্মির কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য এবং এই ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে সংহতি প্রদর্শন করাই হবে তাদের জন্য কৌশলগতভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








