তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সংশোধনে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ‘তথ্য অধিকার ফোরাম’। দাবিগুলোর মধ্যে তথ্য কমিশনার নিয়োগে সময়সীমা নির্ধারণ, নথি পরিচালনাকারী কর্মকর্তার পরিচয় স্পষ্ট করা এবং তথ্য কমিশনের কাঠামো ও ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফোরাম এসব দাবি তুলে ধরে। তারা বলেছে, আইনটির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জরুরি সংশোধনের পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ সংশোধনী প্রয়োজন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্যের সংজ্ঞায় নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। নথির নোট সিট পর্যালোচনার মাধ্যমেই কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কী ভূমিকা রেখেছেন, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। তাই আইনটির ২(চ) উপ-ধারায় তথ্যের সংজ্ঞার মধ্যে নোট সিট যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে ফোরাম। সংবিধিবদ্ধ সংস্থার পাশাপাশি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার সংস্থাকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজ করা বেসরকারি সংস্থা, লাইসেন্স বা অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকেও তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তথ্য কমিশনের নামের ক্ষেত্রে ধারা ১১(১)-এ ‘তথ্য কমিশন’-এর পরে ‘বাংলাদেশ’ শব্দ যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে নিয়োগ নিশ্চিত করতে নতুন উপধারা সংযোজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও সংশোধনী চাওয়া হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও সুবিধা যথাক্রমে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের অনুরূপ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জরিমানার বিধান জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। আপিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তথ্য প্রদান বা আপিল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে তথ্য অধিকার ফোরাম।
সংগঠনটির মতে, আইনের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শুধু জরুরি প্রস্তাব নয়, সব দাবিই বিবেচনায় নিয়ে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর একটি পূর্ণাঙ্গ সংশোধনী প্রয়োজন।








