দেশের পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির শুরু (২২ আগস্ট) থেকে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ‘ওরিয়ন’।
বুধবার (২৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। এতে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জসহ প্রায় ৫০ লাখ মানুষ আটকে পড়েছে।
যদিও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে, এই এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যেই একটি বিশাল খাদ্য এবং মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং সেই সাথে ভুক্তভোগিদের জন্য ত্রাণ বিতরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে, ওরিয়ন অতি দ্রুতভাবে গত ২২ আগস্ট থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বন্যাদুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যকমে অব্যাহত রেখেছে।
ওরিয়ন বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, চিঁড়া, চিনি, বিস্কুট, পানি, স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছে। এছাড়া শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শিশুখাদ্যও বিতরণ করা হচ্ছে।
বিশেষত ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম পাহাড়ি এলাকাগুলোর দূর্গম এবং ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উলেখযোগ্য বিতরণ এলাকাগুলো হলো ফেনীর চিরুনিয়া, হোসেনিয়া মাদ্রাসা, রতনপুর তালতলা মসজিদ, বিরুলিয়া বাজার, পূর্ব চিলোনিয়া, ফাজিলপুর, দক্ষিণ চাঁদপুর, মহিপাল এবং কুমিল্লার আখাউড়া, কসবা ও লাঙ্গলকোর্ট।

ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমকে সুসংগঠিত করার জন্য, ওরিয়ন এর একনিষ্ঠ প্রতিনিধিদল স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি/ স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে, যাতে শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা যায়।
এই ভয়াবহ বন্যার কারণে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে প্রচুর চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে। ওরিয়ন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরীক্ষা ও ওষুধ প্রদান করছে উলেল্লখযোগ্যভাবে।
এছাড়াও ওরিয়ন বর্তমান এবং বন্যা পরবর্তী প্রভাবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার জন্য এক দিনের কর্মচারীদের বেতন দান করছে। বিশেষত, যাদের বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে তাদের জন্য। ওরিয়ন এর ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে।








