যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সরকারি ওয়েবসাইট অফলাইনে চলে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে মানবিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএইড-এর ওয়েবসাইটও। ধারণা করা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
আজ (৪ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, এএফপির এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি প্রদত্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফেডারেল ওয়েবসাইটের তালিকা থেকে ৩৫০টিরও বেশি সাইট সোমবার বিকেলে অপ্রাপ্য ছিল।
এই তালিকা অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শক্তি, পরিবহন, শ্রম বিভাগের পাশাপাশি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটও অফলাইনে ছিল। ওয়েবসাইটগুলো কখন অপ্রাপ্য হয়ে গেছে তার সঠিক সময় স্পষ্ট নয়। এগুলো সাময়িকভাবে অফলাইনে নেয়া হয়েছে নাকি ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে, তাও জানা যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনে টেসলা এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এলন মাস্ক ট্রাম্পের ফেডারেল ব্যয় কমানোর প্রচেষ্টা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই প্রচেষ্টা পরিচালিত হচ্ছে ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি এর অধীনে। সোমবার মাস্ক ইউএসএইড-কে বন্ধ করার ঘোষণা দেন এবং এই সংস্থাকে অপরাধী সংগঠন বলে অভিহিত করেন। ইউএসএইড প্রায় ১২০টি দেশে ত্রাণ কর্মসূচি পরিচালনা করে।
ইউএসএইড-এর ওয়েবসাইট অফলাইনে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মচারীদের ইমেইলের মাধ্যমে সোমবার অফিসে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে, গত সপ্তাহে বেশ কিছু সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সম্পর্কিত তথ্য সরানো হয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশে, করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত এমন সব কর্মসূচি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যা জেন্ডার আইডিওলজি প্রচার করে।
এছাড়াও, ট্রাম্প ইতিমধ্যে এক্সিকিউটিভ অর্ডার জারি করে সরকারে বৈচিত্র্য, সমতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিগুলি নিষিদ্ধ করেছেন। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এর ওয়েবসাইট থেকে এইচআইভি এবং এলজিবিটিকিউ যুবকদের সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ডেটাসেট সরানো হয়েছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই পদক্ষেপগুলি ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি সংস্থাগুলির কার্যক্রম সংকোচনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, যা নিয়ে সমালোচনা এবং বিতর্ক চলমান রয়েছে।








