আইনে থাকলেও দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে পোস্টাল ব্যলটে ভোট। দেশের ভেতরে তিন শ্রেণির ভোটারের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে পোস্টাল ব্যালট। প্রতি আসনে ৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে বাক্স রাখা হয়েছে। এবার ৩০০ আসনে প্রবাসে ও দেশে ১৫ লাখেরও বেশি নাগরিক পোস্টাল ভোটিংয়ে নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন নিবন্ধন করেছেন সৌদি আরব থেকে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ২৯২ জন, কাতারে ৭৬ হাজার ১৩৯ জন ও ওমানে ৫৬ হাজার ২০৭ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।
ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসা শুরু হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকালে সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাদের ব্যালট পেপার পৌঁছাবে, তাদের ব্যালট গণনা করা হবে। প্রবাস থেকে ভোট দিতে এবারই প্রথম মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন হয়েছে, যাতে সাড়া দিয়েছেন সাড়ে সাত লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তি নিবন্ধন করেছে। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে অর্থাৎ কারাগারে থাকা ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রবাস জীবনে সোয়া কোটিরও বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন, সেই হিসাবে নিবন্ধিত বাংলাদেশি ভোটারের হার ৬ শতাংশের বেশি।
ডিজিটাল প্লাটফর্ম থেকে আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা, নাম ও প্রতীক দেখে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন প্রবাসীরা। শেষ পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটে কত ভোট পড়বে সেদিকেও নজর রাখছে অনেকেই। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২১ হাজার ৫০৮টি ভোট পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ইসির তথ্য অনুযায়ী প্রবাসীদের নিবন্ধনের পরে বিভিন্ন দেশে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়। প্রবাসী ভোটাররা ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০টি। এর মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন। পোস্টাল ভোট নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশিকাও দিয়েছে ইসি। প্রত্যেক ভোটারকে পাঠানো ভোটদান নির্দেশিকা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটের খাম প্রাপ্তির পরপরই ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপে’ লগইন করে খামের ওপর প্রদত্ত কিউআর কোডটি স্ক্যান করবেন। এতে ভোটার যে ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন, তা সিস্টেমে শনাক্ত হবে। ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডাকযোগে আসা পোস্টাল ব্যালট গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে। ওই সময়ের পরে পাওয়া ব্যালটের খাম স্ক্যান না করে এবং গণনা কার্যক্রমের আওতায় না এনে বাতিল হিসেবে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার পরপর-ই প্রিজাইডিং অফিসাররা স্ব স্ব আসনের পোস্টাল ব্যালট ভর্তি বাক্সগুলো রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে বুঝে নেবেন। থাকবে আসন ভিত্তিক গণনা কক্ষ। এ পোস্টাল ব্যালটের জন্য এবার ভোট গণনায় দেরি হবে।
এবার ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষনায় দেরি হবার কারণ?
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এর কারণ,এবার শুধুমাত্র নির্বাচন হচ্ছে না, সঙ্গে একটা গণভোট হচ্ছে। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর এ দুটি ভোট গণনাই একসঙ্গে শুরু হবে এবং এর সঙ্গে আছে পোস্টাল ব্যালট। নির্বাচন কমিশনও বলছে, পোস্টাল ব্যালটে ভোটের কারণে এবার ভোট গণনায় সময় বেশি লাগবে।
প্রতিটি নির্বাচনে একজন ভোটার একটি ভোট দেয়ার রীতি থাকলেও এবার গণভোটের কারণে প্রতি ভোটার দুটি করে ভোট দেবেন। এ কারণে একজন ভোটারের দুটি ভোট গণনায় অতিরিক্ত সময় লাগবে। তার পাশাপাশি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার, দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতিতে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা হবে। ফলে ভোট গণনায় অন্য সময়ের তুলনায় এবার বেশি সময় লাগবে। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যলটে ১৮টি আসনে দশ হাজারের বেশি নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ফেনী ৩ আসন থেকে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন প্রবাসী ভোটাররা।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার যেহেতু ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে, পাশাপাশি এবার সারা দেশে প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি, ফলে ভোটগ্রহণ এবং গণনা উভয় ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
এসব কারণেই ইসির ধারণা, ৩০০ আসনে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করতে মধ্যরাত অথবা পরদিন অর্থাৎ ১৩ তারিখ সকাল হয়ে যেতে পারে।








