দক্ষিণী ও হিন্দি সিনেমার দাপটে কোণঠাসা পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। সেখানে বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমা তেমন হচ্ছে না বললেই চলে! মাঝে মধ্যে জিৎ বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমা করলেও সেগুলো ব্যবসায়িকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে!
অন্যদিকে কমার্শিয়াল সিনেমা থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে দেব আর্ট ফিল্মে ঝুঁকেছেন। তবে সর্বশেষ ‘খাদান’ দিয়ে কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে টলিউড! কলকাতার ব্যবসায়িক মন্দার কারণে সেখানকার নামী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকার শাকিব খানকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে!
এই পরিস্থিতিতে ক্যারিয়ার নিয়ে হুমকির মুখে পড়েছিলেন কলকাতার অনেক বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র পরিচালক! তাদেরই একজন রাজীব বিশ্বাস। যিনি দুজনে, পাগলু, বিন্দাস, অমানুষ, ইডিয়েট, লাভ এক্সপ্রেসসহ প্রায় দেড় ডজন বাণিজ্যিক সিনেমা বানিয়েছেন।
এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই সুপারহিট। রাজীব বিশ্বাসের আরেক পরিচয় তিনি অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই সংসার টেকেনি।
২০২২ সালের পর থেকে রাজীব বিশ্বাস নেই টলিউডে, নেই কলকাতার সিনেমার জগতে। সম্প্রতি কলকাতায় একটি সিনেমার প্রিমিয়ারে আনন্দবাজারে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাজীব বিশ্বাস জানান, কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবসা মন্দার কারণে তিনি বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছিলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে পর পর দুটো বড় বাজেটের ছবিতে কাজ করছিলাম। একটি ‘অপারেশন জ্যাকপট’, আরেকটি অনন্ত জলিল-বর্ষার ‘চিতা’। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কাজ মাঝপথে থেমে গেছে। কবে শুরু হবে, তা জানি না। আপাতত কলকাতাতেই ফিরে এসেছি।
রাজীব জানান, করোনার পর বাংলা ছবির বাজার প্রায় ভেঙে পড়ে। এমনকি তারকারাও বাণিজ্যিক ছবির বদলে ভিন্ন ধারার দিকে ঝুঁকেছেন। “দেব যখন আর্ট ফিল্মে চলে গেল, তখনই বুঝেছিলাম বড় বাজেটের বাণিজ্যিক ছবির জায়গাটা সংকুচিত হয়ে গেছে। এখন আর সেই ধরনের প্রযোজক নেই” বললেন নির্মাতা।
এই প্রেক্ষাপটেই ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশে পাড়ি জমান। শাকিব খানকে নিয়ে নির্মিত ‘নাকাব’ ছবির সাফল্য তাকে দুইটি বড় প্রকল্পে কাজের সুযোগ এনে দেয়, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ২৩ কোটি টাকা বাজেটের ‘অপারেশন জ্যাকপট’ ও অনন্ত জলিল-বর্ষা জুটির ‘চিতা’, যেটি নির্মিত হওয়ার কথা ছিল জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অচলাবস্থায় এই দুটি ছবির কাজই বন্ধ হয়ে যায়। রাজীব বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন সিনেমা ও নাটক হচ্ছে, তবে আগের তুলনায় অনেক কম। একমাত্র শাকিব খানই এখনও বাণিজ্য ধরে রেখেছেন। বাকি কেউই তার মতো সফল হতে পারছেন না।’
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবিতেও এখন স্থবিরতা, কারণ ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশি শিল্পীরা কলকাতায় আসতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন রাজীব বিশ্বাস। তবে পরিচালক হিসেবে তিনি আশা ছাড়েননি। ফের কলকাতায় দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তিনি। –আনন্দবাজার







