অধিকার আদায়ের যে কোনো আন্দোলনে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে গানের বিকল্প নাই। বায়ান্ন থেকে একাত্তর- প্রতিটি পদক্ষেপে গান ছিলো প্রতিবাদের অন্যতম অস্ত্র। চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছে গান। বিশেষত র্যাপ সং।
যে গানগুলো আন্দোলনকারীদের উৎসাহ, উদ্দীপনা দিয়েছে। এসব গানে প্রতিবাদের ভাষা ছিল ব্যাপক আক্রমাণত্মক। কথা ক, কিংবা আওয়াজ উডা-ই নয়, ছাত্র আন্দোলনে তৈরী হয়েছে আরো বহু র্যাপ সং। গানের জন্য তো র্যাপার হান্নানকে গ্রেপ্তারই করা হয়েছিলো।
সহজ কথা সোজাসুজি সুরে বিটে বলে দেয়ার চর্চার সঙ্গেই র্যাপ গানের মূল যোগাযোগ বলে মনে করেন অনেকে। র্যাপ গান কথা প্রধান। বলার ধরন যেমন সোজাসাপ্টা এবং তীক্ষ্ণ। গানের কথাও তেমনি। জেড জেনারেশনও সোজাসাপ্টা কথা বলতেই পছন্দ করেন। অনেকে মনে করছেন, এসব কারণেই অন্য সব গানের চেয়ে এবারের আন্দোলনে র্যাপ গান বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
বিষয়টি নিয়ে এমন পর্যবেক্ষণই ব্যক্ত করলেন ‘গেটআপ স্ট্যান্ডআপ’ প্লাটফর্মের সদস্য এবং শিরোনামহীনের দলনেতা জিয়াউর রহমান। আন্দোলনে র্যাপ সংয়ের ভূমিকা নিয়ে এই বেজ গিটারিস্ট বলেন,“সোশাল একটা প্রবলেম, সেটা নিয়ে যদি কথা বলতে হয়; তাহলে র্যাপ সংয়ের কোনো বিকল্প নাই। যে কোনো ইস্যুতে র্যাপ সংয়ে যেভাবে তুলে আনা যায়, সেটা কিন্তু অন্যান্য জনরা পারবে না। যেটা আমরা এবারের আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে দেখেছি।”
ছাত্র আন্দোলনে মিউজিশিয়ানরা সরব ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রদের পক্ষে অনেকে বললেও দলবদ্ধ প্রতিবাদটা মিউজিশিয়ানদের থেকে আসে একটু দেরীতে। কেন এমনটা হলো, সে বিষয়ে জিয়া বলেন,“কোটা সংস্কারের আন্দোলনের গ্রাউন্ড সম্পর্কে আমরা জানি। ছাত্রদের এই আন্দোলনে আমরা মিউজিশিয়ানরা কিন্তু শুরু থেকেই ইন্ডিভিজ্যুয়ালি ছিলাম। নিরীহ একটা মুভমেন্টে অ্যাটাক আসবে, মানুষ মেরে ফেলা হবে- এটা আমরা ভাবিনি। এরপর থেকে সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেল!”
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন,“এই সময়ে মিউজিশিয়ানরা ব্যক্তিগত জায়গা থেকে অনেকে কথা বলছিলাম। দেখা গেল, সমমনা অনেকেই আছে; যারা এ বিষয়ে কথা বলছেন। কিন্তু আমরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। ওই সময়টাও এরকম প্রতিকূলে ছিলো। কারফিউ ছিলো। তবু আমরা কয়েকজন মিলে একটা পদক্ষেপ নেই। যেটা শুরু হয়েছিলো গানের মাধ্যমে। শিরোনামহীনের ভোকাল শেখ ইশতিয়াক ‘শেকল পড়া ছল’ গানটি নতুনভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করে। যেখানে বলা হয়েছিলো, চলমান আন্দোলনটি কেন সবার জন্য জরুরি। তার সাথে সেসময় রাফা, প্রবর রিপন, সাকিব ছিলো। তাদের সাথেই নিয়েই রেকর্ডিং করে। ওই কানেক্টিভিটি থেকে পরে ‘গেটআপ স্ট্যান্ডআপ’ নামে একটা প্লাটফর্ম তৈরী হয়। যেখানে আমরা মিউজিশিয়ানরা একত্রিত হই।”
বাকি কথা ভিডিওতে-








