অবিলম্বে নতুন নির্বাচন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এসময় বক্তারা বলেছেন, যে ব্যবস্থায় এক শতাংশ মানুষ ভোট দিলে ওই ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বৈধ বলা হয়, সেই ব্যবস্থা পাল্টাতে হবে।
শনিবার ২৭ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের আহ্বানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম জোটের সমন্বয়ক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যে ব্যবস্থায় এক শতাংশ মানুষ ভোট দিলে ওই ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বৈধ বলা হয়, যে ব্যবস্থায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলেও তাকে বৈধ বলা হয়, যে ব্যবস্থায় নির্বাচন টাকাওয়ালা ও ক্ষমতাধরদের হাতে বন্দি থাকে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া ভালো নির্বাচন এবং যোগ্যতম নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আশা করা যায় না। তাই পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না।
তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি যে নির্বাচন হলো তা প্রহসনের নতুন মাত্রা দেখালো। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নীতিহীন রাজনীতির চেহারা জনসম্মুখে আরেকবার ফুটে উঠলো। এ অবস্থা থেকে রাজনীতি বাঁচাতে নীতিনিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলা ছাড়া মানুষের মুক্তি আসবে না। এজন্য নীতিহীন রাজনীতির বিপরীতে নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির পতাকাতলে সচেতন দেশবাসীকে সমবেত হতে হবে।
সমাবেশে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দেশে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির মূল্যবৃদ্ধির নানা প্রক্রিয়া চলছে। পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে সরকার আর্থিক সংকট মোকাবেলায় সরাসরি বা বণ্ড ছাড়ার কথা বলে টাকা ছাপছে। যা অর্থনীতিতে আরেক নতুন সংকট নিয়ে আসবে।
এসময় তিনি ‘ডামি’ নির্বাচন বাতিল, জাতীয় সংসদে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির প্রবর্তনসহ নির্বাচন ব্যবস্থা আমূল সংস্কার এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, অধিকাংশ মানুষের হাতে টাকা নেই, কম খেয়ে বেঁচে আছেন, ঠিকমতো শিক্ষা, চিকিৎসা করতে পারছে না। কিন্তু অন্যদিকে একাংশ মানুষ টাকার পাহাড় গড়ছে। টাকা পাচার হচ্ছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। প্রতিটি মানুষের কাধে বিদেশি ঋণের বোঝাও বেড়ে চলছে। নির্বাচনী হলফনামায় যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে নির্বাচিত এমপি বা ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যেই বেশি ব্যস্ত। নেতৃবৃন্দ হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য অনুসন্ধান এবং এই তথ্য সম্পর্কে শ্বেতপত্র প্রকাশ ও এর বাইরে আরো কোন সম্পদ আছে কি না তা তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বাজার সিন্ডিকেট ভাঙ্গাসহ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিত্যপণ্যের বাফার স্টক গড়ে তোলা এবং সারাদেশে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
বর্ডারে বিজেবি সদস্যকে বিএসএফ কর্তৃক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকারের নতজানু নীতির কারণে এ ধরনের সীমান্ত হত্যা ঘটেই চলেছে। নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ ও অন্যায় আবদার মেনে নিয়ে সরকার দেশ পরিচালনা করছে। যা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রতি হুমকি। সরকারের এ ধরণের নতজানু নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম, বাসদ মার্কসবাদীর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ।
সমাবেশে আগামীকাল ২৮ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে মতবিনিময়সহ সভা-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সভায় বলা হয় সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করে মূল্যবৃদ্ধি, লুটপাট অব্যাহত রাখলে আগামীতে ঘেরাওসহ নানা ধরণের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।








