এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
চলতি বিপিএলে টানা আট জয়ের পর চট্টগ্রামে দুর্বার রাজশাহীর কাছে প্রথম হার দেখেছিল রংপুর রাইডার্স। ঢাকায় ফিরে আবারও দুদলের মুখোমুখিতে হাসল নানা সমালোচনা ও বিতর্কের তুঙ্গে থাকা রাজশাহী। পারিশ্রমিক না পেয়ে রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছেন রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটাররা। বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির বিশেষ অনুমোদনে শুধুমাত্র দেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে নামে দলটি। তাতেই বাজিমাত, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী এবং তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে রংপুরকে টানা দ্বিতীয় হার দেখাল রাজশাহী।
রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে বড় খবর ছিল, পারিশ্রমিক না পেয়ে রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটারদের ম্যাচ বয়কট করা। টিম হোটেল থেকে ১৩ জন দেশি ক্রিকেটার নিয়ে মাঠে আসে দলটির টিম বাস। পরে বিসিবির বাস যায় হোটেলে বিদেশিদের আনতে, তাতেও লাভ হয়নি। দেশিদের নিয়ে মাঠে নামে দলটি। এর আগে দুপুরে টিম হোটেলও পরিবর্তন করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। অবশ্য ম্যাচের আগে দেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দেয় রাজশাহী কর্তৃপক্ষ।
বিতর্ক পেরিয়ে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে রাজশাহী। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ধুঁকছিল দলটি। ৯ উইকেটে ১১৯ রান তোলে। খুব বেশি রান করতে না পারলেও বোলাররা দারুণ করেছেন। এই রানেই আটকায় গ্লোবাল চ্যাম্পিয়ন রংপুর। জবাবে নেমে ৮ উইকেটে ১১৭ রানে থামে রংপুরের ইনিংস। ২ রানের জয়।
রংপুরকে ২ রানে হারিয়ে ১১তম ম্যাচে নিজেদের পঞ্চম জয় পেল রাজশাহী। ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে উঠে এসেছে তাতে। অন্যদিকে টানা আট জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে রংপুর। ৯ ম্যাচে ৭ জয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে ফরচুন বরিশালের। সমান ম্যাচে ৫ জয়ে রাজশাহী থেকে রানরেটে এগিয়ে তিনে চিটাগং কিংস।
মিরপুরে আগে ব্যাটে নামা রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস আসে নয়ে নামা সানজামুল ইসলামের ব্যাট থেকে। ২৯ বলে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন আকবর আলি, ২১ বলে। তাসকিন আহমেদ ৮ বলে ১৩, এনামুল হক বিজয় ১৬ বলে ১৩, সাব্বির হোসেন ১৩ বলে ১১ এবং মৃত্যুঞ্জয় ১০ বলে ১০ রান করেন। বাকিদের কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
রংপুরের হয়ে খুশদিল শাহ ৩ উইকেট নেন। রাকিবুল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন।
রংপুরকে রানতাড়ায় পাঠিয়ে শুরু থেকেই চেপে ধরে রাজশাহী। ৩০ রানে রংপুরের ৬ উইকেট তুলে নেয় দলটি। সপ্তম উইকেটে ১৯ রান তোলেন খুশদিল শাহ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৪৯ রানে খুশদিল ফিরে যান ১৮ বলে ১০ রান করে। পরে রাকিবুল হাসানকে নিয়ে হাল ধরেন সাইফউদ্দিন। অষ্টম উইকেটে ৩৬ বলে ৪২ রান তোলেন দুজনে। দলীয় ৯১ রানে রাকিবুল ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। ২২ বলে ২০ রান করেন তিনি।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের দরকার ছিল ২৫ রান। প্রথম দুই বলে ছক্কা হাঁকান সাইফউদ্দিন। পরের দুই বলে রান নেয়ার সুযোগ থাকলেও রান নেননি। শেষ দুই বলে প্রয়োজন পড়ে ১৩ রান। একটি চার ও একটি ছক্কায় ১০ রান তোলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২ রানে হেরে যায় রংপুর। তিন ছক্কা ও ছয়টি চারে ৩১ বলে ৫২ রান করেন সাইফউদ্দিন।
রাজশাহীর হয়ে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় দ্বিতীয়বারের মতো ৪ উইকেট নেন। এর আগে ২০২২ বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে ২৫ রান খরচায় ২ উইকেট নেন। তাতে বিপিএলের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির শীর্ষস্থান দখল করে নেন তিনি। চলতি আসরে তাসকিনের উইকেট সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৪টি। এর আগে ২০১৯ বিপিএলে সাকিব আল হাসান সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট শিকার করেছিলেন। মোহর শেখ দুই উইকেট নেন।








