শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর পাঁচ দিন পরও কাটছে না রহস্য। বরং প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য, প্রশ্ন আর গুঞ্জনে আরও জটিল হয়ে উঠছে পুরো ঘটনা।
বুধবার (১ এপ্রিল) কলকাতার টেলিপাড়ায় ছড়ায় নতুন এক গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে, ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র চিত্রনাট্য অনুযায়ীই নাকি শুটিং চলছিল। গল্পে নায়ক ‘উজান’ চরিত্রের জলে ডুবে মৃত্যুর দৃশ্য আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল—এমন দাবিও উঠেছে।
গুঞ্জন অনুযায়ী, সেই দৃশ্য ধারণের জন্যই গভীর জলে শুটিং করছিলেন রাহুল ও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। অভিযোগ রয়েছে, শুটিংস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অপ্রতুল, মাত্র একজন ডুবুরি উপস্থিত ছিলেন, আর স্থানীয় থানার অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
তবে এসব তথ্যের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কারণ, এ বিষয়ে ধারাবাহিকের কাহিনিকার ও প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হচ্ছে, চিত্রনাট্যে গভীর জলে নেমে শুটিংয়ের কোনও দৃশ্য ছিল না। পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, রাহুল নিজেই নাকি জলে নেমে কিছু দৃশ্য ধারণের অনুরোধ করেছিলেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত অভিনেত্রী শ্বেতাও একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি ও রাহুল দুজনেই জলের গভীরে গিয়ে শুটিং করছিলেন। তিনি নিজে পড়ে গেলেও অন্যদের সহায়তায় উঠে আসতে পেরেছেন, কিন্তু রাহুল আর উঠতে পারেননি।
এদিকে টেলিপাড়ায় আরও একটি তত্ত্ব ঘুরছে- ধারাবাহিকটির গল্পে নায়কের মৃত্যু দেখানোর পরিকল্পনা আগেই ছিল। একই প্রযোজনা সংস্থার আগের কিছু ধারাবাহিকের মতো এখানেও নায়কের মৃত্যু ও নায়িকার জীবনে পুরনো প্রেমের প্রত্যাবর্তনের ট্র্যাক রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই সূত্রেই তালসারির শুটিংয়ে নায়িকার প্রাক্তন প্রেমিক চরিত্রেও শুটিং চলছিল, যেখানে অভিনয় করছেন সিদ্ধার্থ সেন।
তবে এসবই এখনো গুঞ্জন পর্যায়েই রয়েছে। নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে রাহুলের মৃত্যুর পর তিন দিন পার হতে না হতেই প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিতে চান।







