বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে ‘প্রহসনমূলক’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। একইসঙ্গে দল-মতের ঊর্ধে গিয়ে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীকে একসাথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সোমবার ২০মে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিম্ন আয় ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠিকে পেনশনের আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রণীত সর্বজনীন পেনশন স্কিম আইন ২০২৩ আগামী ১ জুলাই ২০২৪ থেকে চালু করার ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকার। নামে সর্বজনীন হলেও প্রশাসন, পুলিশ, প্রতিরক্ষা, বিচার বিভাগসহ রাজস্ব খাতের অন্যান্য কর্মচারীদের সুকৌশলে এই স্কিমের বাইরে রেখে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে শিক্ষকরা ইতোমধ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা মনে করি, সরকারের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ব্যর্থ প্রয়াসের অংশ হিসেবে এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত সামনে এনে জনগণকে বোকা বানিয়ে সরকার লুটপাটের নুতন খাত উন্মোচন করতে চায়। এই নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা স্কিমে যুক্ত হলে তা নতুন পুরাতনদের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করবে। এ ছাড়াও স্বাভাবিক পদোন্নতির পরিবর্তে যারা উচ্চতর পদে যোগদান করবেন তাদের ক্ষেত্রে পেনশন নীতিমালায় জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা আছে।
বর্তমানে মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত হওয়ার অন্যতম কারণ হল চাকরিতে সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মেধাশুন্য হয়ে পড়ছে ও দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলার কাজ ব্যহত হচ্ছে। জাতির জন্য এটা একটি অশনি সংকেত বটে।
নতুন পেনশন স্কিম চালু হলে শিক্ষকরা আরেক দফা অবমূল্যায়নের শিকার হবেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তানে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল থাকলেও আমাদের দেশে তা কল্পনাতীত। বরং দেশের অধিকাংশ সরকারি চাকরিজীবির তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পেশাগত সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছেন। জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষাকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রে দেশি-বিদেশি একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বেতন কাঠামো, পেনশন ব্যবস্থাসহ সকল ক্ষেত্রে স্বায়ত্বশাসন আজ হুমকির সম্মুখীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সহকর্মীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, দল-মতের ঊর্ধে গিয়ে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীকে একসাথে সোচ্চার হওয়ার জন্য জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উদাত্ত আহবান জানাচ্ছে।








