দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা মোহাম্মাদপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পনা করছিল একটি গ্যাং।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী গ্যাং ‘কব্জি কাটা গ্রুপ’র অন্যতম মূলহোতা টাকলা হায়াতসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার (৩ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মোহাম্মাদপুররের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ‘কবজি কাটা গ্রুপ’র অন্যতম মূলহোতা মো. হায়াত ওরফে টাকলা হায়াত, মো. সাগর, মো. ইসমাইল হোসেন, ও মো. সুমন। ‘বিরিয়ানী সুমন গ্রুপ’র মূলহোতা মো. সুমন ওরফে বিরিয়ানী সুমন, মো. বাদল , মো. আকাশ, মো. রাব্বি ও মো. রাসেল।
র্যাব জানায়, নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতো তারা। গাড়ির হেলপার-ড্রাইভার, দোকানের কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক, পুরাতন মালামাল ক্রেতা, সবজি বিক্রেতা ইত্যাদি পেশার আড়ালে তারা মূলত মোহাম্মদপুর ও তার আশেপাশের এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করতো।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য কর্তৃক ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এ সকল সন্ত্রাসীদের হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরী ও মামলা দায়ের করা হয়। মোহাম্মদপুর ও তার আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পায় র্যাব। এ প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা নজরদারীর ধারাবাহিকতায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার চারজন ‘কব্জি কাটা গ্রুপ’ এবং পাঁচজন ‘বিরিয়ানী সুমন গ্রুপ’র সদস্য। তাদের দুটি গ্রুপে প্রায় ৩০-৩৫ জন সদস্য রয়েছে। কব্জি টাকা গ্রুপটি সন্ত্রাসী আনোয়ার ও টাকলা হায়াতের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়। এছাড়াও তারা ‘আনোয়ার সিন্ডিকেট’ নামেও পরিচিত। এই গ্রুপের সদস্যরা আগে ‘আনোয়ার গ্রুপ’ নামে অন্তর্ভুক্ত ছিল। নিজেদের মধ্যে অন্তকোন্দলের কারণে তারা ২-৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়। বিরিয়ানি সুমন গ্রুপটি গ্রেপ্তার সুমন ওরফে বিরিয়ানী সুমনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।
তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির স্বার্থ হাসিলের জন্য টাকার বিনিময়ে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবেও কাজ করতো। এছাড়াও তারা মাদক সেবনসহ এলাকাগুলো মাদক কারবারির সঙ্গেও জড়িত ছিল।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা মোহাম্মাদপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য গ্রেফতাররা পরিকল্পনা করছিল। এ উদ্দেশ্যে তারা এলাকায় ধারালো অস্ত্রসহ শো-ডাউন, বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণকে ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার পরিকল্পনা করছিল।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে মোহাম্মদপুর এলাকার হাউজিং প্রকল্পগুলোতে কাজ করেছে বলে জানা গেছে। তারা প্রাথমিকভাবে যাদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে যাচাই-বাছাই করছি। নির্বাচনকে ঘিরে যারা তাদেরকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল, তাদের বিষয়েও আমাদেরকে তথ্য দিয়েছে। আমাদের গোয়েন্দারা যাচাই বাছাই করছে।
এ ৯ জনের রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তারা ভাড়াটে সন্ত্রাসী। তাদের সঙ্গে সরাসরি প্রার্থীর জড়িত থাকার তথ্য পাইনি। তবে প্রার্থীদের কিছু অনুসারী ও অতিউৎসাহী লোক থাকে, তাদের কিছু তথ্য পেয়েছি। অনুসারীদের দলের পরিচয় নিয়ে আমরা কাজ করছি।








