কিউবায় জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় দেশটির একটি কমিউনিস্ট পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বিরল এই জনঅসন্তোষের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার (১৪ মার্চ) ভোর পর্যন্ত চলা এই ঘটনায় মধ্যাঞ্চলীয় শহর মোরন-এ কমিউনিস্ট পার্টির একটি ভবনে ভাঙচুর করা হয়। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। একদল বিক্ষোভকারী ভবনের প্রবেশপথে পাথর নিক্ষেপ করে এবং রিসেপশন এলাকা থেকে আসবাবপত্র এনে সড়কের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি একটি ফার্মেসি ও সরকারি বাজারেও হামলার ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন স্বাধীনতা স্লোগান দিতে দিতে ভবনের জানালায় পাথর ছুড়ছে এবং সড়কের মাঝখানে আগুন জ্বলছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের ঘাটতির কারণে কিউবার জনগণের অসন্তোষ বাড়ছে। এসব সংকটের জন্য সরকার যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধকে দায়ী করছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের কিছু অভিযোগ যৌক্তিক, তবে সহিংসতা ও ভাঙচুর মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরও তীব্র হওয়ায় বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত তিন মাসে দেশে কোনো জ্বালানি প্রবেশ করেনি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, দেশটি এখন গভীর সংকটে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।
এর আগে জানুয়ারিতে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই তেল দেশটির জ্বালানি চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করত।
কিউবার অর্থনীতি মূলত আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি দেশটির অর্থনীতিকে ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে আবর্জনা সংগ্রহ, জরুরি হাসপাতাল সেবা, গণপরিবহন এবং শিক্ষা কার্যক্রমেও। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দীর্ঘ সময়ের ব্ল্যাকআউটের প্রতিবাদে অনেক জায়গায় মানুষ রাতে রাস্তায় বা বাসা থেকে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে বিক্ষোভ করছে।
বিশেষ করে রাজধানী হাভানাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিক্ষোভ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার প্রতিবাদে সমাবেশ করেন।
তবে কিউবায় প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বিরল ঘটনা। যদিও ২০১৯ সালের সংবিধানে নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার দেওয়া হয়েছে, সেই অধিকার কীভাবে প্রয়োগ হবে-এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইন এখনও অনুমোদিত হয়নি।








