প্রশাসনে থাকা আওয়ামী দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগকে রাস্তায় নামার সুযোগ করে দিচ্ছে উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছেন, এই সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, আর এটাই হবে সরকারের বড় সংস্কার।
বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) জুলাই মঞ্চের ৫ম ও শেষ শহীদি মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই শহীদি মার্চে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগ-যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে ‘জুলাই মঞ্চ’।
জুলাই মঞ্চের শহীদি মার্চে সংহতি জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এই যাত্রাবাড়ী এলাকার মানুষের যে ভূমিকা ছিল তা অনস্বীকার্য। এই এলাকার মানুষ বুলেটের সামনে জীবনের মায়া ত্যাগ করে তারা হাসিনার পতন নিশ্চিত করেছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও যাত্রাবাড়ী এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে নাই।
তিনি বলেন, এই লাকায় আওয়ামী প্রশাসন সবচেয়ে বেশি হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এই হত্যা জড়িতরা অনেকে আটক হয়নি। সরকারের নমনীয়তা এবং সরকারের ভিতর থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে কেন-না এই সরকার যাদের জীবনের বিনিময়ে ক্ষমতায় বসেছে তারা সেই শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করছে, গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করে। গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় জড়িতরা রাস্তায় নামছে। প্রশাসনে থাকা আওয়ামী দূর্বত্তরার্বত্তরা আওয়ামিলীগকে রাস্তায় নামার সুযোগ করে দিচ্ছে।
আবু হানিফ বলেন এই অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার বারবার সংস্কারের কথা বলছে। তারা গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করে কিসের সংস্কার করছে এটা জনগণের প্রশ্ন। এই সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, আর এটাই হবে বড় সংস্কার। সংস্কারের নামে তালবাহানা না করে দ্রুত সময়ের ভিতরে গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে। জুলাই মঞ্চ গত দুই মাস ধরে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে গণহত্যার বিচারের দাবিতে। সবার প্রতি আহ্বান আপনারা গণহত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন।
জুলাই মঞ্চের প্রতিনিধি সাকিব হোসেন বলেন, বর্তমান প্রশাসনে গণহত্যায় জড়িত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের চাকরি এখনো বহাল রয়েছে, অধিকাংশকেই এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। গণহত্যার মামলাগুলোর কার্যক্রম এগোচ্ছে না। গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবাররা বিচার নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছে৷ তারা মনে করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলে গেলে তারা আর বিচার পাবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এখনো আশাব্যঞ্জক অবস্থায় পৌঁছায়নি।
সাকিব বলেন, জুলাই মঞ্চের ৫ম ও সর্বশেষ শহীদি মার্চ শেষে উপস্থিত জনতা ও মঞ্চের প্রতিনিধিবৃন্দ যাত্রাবাড়ি থানায় দায়িত্বরতদের সাথে সাক্ষাত করেছি এবং যাত্রাবাড়ি থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আইজিপির কাছে একটি বার্তা প্রেরণ করেন। বাংলাদেশে গণহত্যার শিকার প্রত্যেকটি পরিবার কাছে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল স্বশরীরে গিয়ে সেই পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইবে এবং শহীদের কবর জিয়ারত করবে।
জুলাই মঞ্চের অন্যতম প্রতনিধি আরিফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে দুর্বৃত্তায়ন গড়ে উঠেছে। অথচ রাষ্ট্রে সেসকল সমস্যা রেখে এখন কেবল অতীতের মতই একটা নির্বাচনের জন্য সকলে উঠে পড়ে লেগেছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই গণহত্যার বিচার, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল এবং প্রশাসনের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করার পূর্বে কোন নির্বাচন দেয়া হলে তা হবে ২৪ এর শহীদদের প্রতি অবিচার। যদি এই ইনটারিম সরকার নিজেদের উক্ত কাজগুলোর জন্য অযোগ্য মনে করে তাহলে অবিলম্বে ড. ইউনুসের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠন করে উক্ত কাজগুলো করেই তবে নির্বাচন দিতে হবে।
অর্নব হোসাইন বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি ডিএমপি কমিশনার অফিস থেকে গত ৯ এপ্রিল একটা প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে সকল থানায়। যেখানে উল্লেখ করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামিদের ধরার আগে কমিশনার অফিসে অবহিত করতে। ডিএমপি কমিশনার অফিস থেকে আসা এই ধরনের কাজকে ফ্যাসিবাদের পাহারাদার হিসেবে দেখছি। এই প্রজ্ঞাপনের পরে ১৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগ যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে। এর থেকে প্রমানিত হয় আওয়ামী লীগ তাদের কিলিং মিশন আবারও বাস্তবায়ন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।








