তেল ও গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলো শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের মুনাফায় অংশগ্রহণের বিধান থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব শ্রমিক নেতারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে বাবুল আখতার বলেন, শ্রম আইনের পঞ্চদশ অধ্যায়ে মালিকের মুনাফা থেকে শ্রমিকদের অংশ দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল বা সীমিত করার জন্য তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। আমরা শ্রমিক নেতারা সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছি।
তিনি বলেন, পরে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়। নীতিগতভাবে সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকলেও আজই তা অনুমোদনের জন্য এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। আমরা সে চাপ মানিনি।
বাবুল আখতার জানান, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। তাই আমরা বলেছি, নতুন সরকার এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছি।
তিনি আরও জানান, আগামী রোববার তেল ও গ্যাস খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে প্রস্তাবটি শ্রমিকদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হলে তা মেনে নেওয়া হবে। অন্যথায় দেশীয় ও বিদেশি সব তেল-গ্যাস কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রমিকস্বার্থবিরোধী অবস্থানের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরা হবে।
শ্রমিক নেতা বাবুল বলেন, সরকার দাবি করছে যে তারা কোনো টেন্ডার দিচ্ছে না বা এতে অংশ নিচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে আমলাতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এর সঙ্গে শ্রমিকদের মুনাফার ৫ শতাংশের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি লাভ করলে সেই লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা। এই ৫ শতাংশের মধ্যে ৮০ শতাংশ সরাসরি সমান হারে শ্রমিকদের দেওয়া হয়, ১০ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে এবং বাকি ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা হয়। তবে বর্তমানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে এমন একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত এই ৫ শতাংশ দেওয়া হবে না। বিদেশি আটটি তেল ও গ্যাস কোম্পানি দাবি করছে, এই হার বেশি হওয়ায় তারা তা দিতে পারবে না। শ্রমিক নেতারা বলছেন, এটি কেবল লাভের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এটি বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইনের অংশ।
তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং আগামী বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।








