প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের অনুবাদ গ্রন্থ ‘ক্লাস্টার ক্লাউডস’ এর মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কালেক্টেড ওয়ার্কস অব শেখ মুজিবুর রহমান: ভলিউম-২, প্রাণের মেলায় শেখ হাসিনাসহ ১০টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আয়োজিত মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
এসময় বই পড়ার অভ্যাসের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন: বাবা-মা যদি সন্তানকে ছোট থেকেই পড়ানোর অভ্যাস করায়, তাহলেই পড়ার অভ্যাস হবে।
নিজের বই পড়ার অভ্যাসের কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন: অনেকেই ঘুম আসে না ঘুমের ওষুধ খায়। ঘুমের ওধুষ খাওয়ার কারণটা কী! যেটা খুব একটু ইন্টারেস্টিং না, একটু কাঠখোট্টা টাইপের- হাতে নিলেই ঘুম চলে আসবে। আমি নিজেই সেটা মনে করি। বেশি মজারটা পড়লে আবার ঘুম চলে যাবে। তাই বেছে নিতে হবে এমন একটা যেটা পড়লে ঘুম তাড়াতাড়ি আসবে। আমি এখন এটা অনুসরণ করি।
এসময় বাংলা ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জড়িয়ে থাকার ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা। বলেন:আমি আমার বাবার কথা স্মরণ করে যতবার জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছি ততবারই বাংলা ভাষায় দিয়েছি। সম্ভবত ১৯-২০ বার জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়েছি।
বক্তব্য শেষে অমর একুশে বই মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবশেষে বইমেলা প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্টলগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘কালেক্টেড ওয়ার্কস অব শেখ মুজিবুর রহমান: ভলিউম-২’, প্রাণের মেলায় শেখ হাসিনা ও কথাসাহত্যিক রাবেয়া খাতুনের অনুবাদ গ্রন্থ ‘ক্লাস্টার ক্লাউডস’সহ ১০টি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সাহিত্য বিশেষ অবদানের জন্য ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৬ জনকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। সবমিলিয়ে বরাবরের মতো এবারও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকছে মেলার আয়োজন।
এবারের মেলায় ৬৩৫ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পেয়েছে ৯৩৭টি ইউনিট। এবার প্রকাশনা সংস্থা বেড়েছে ৩৪টি। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০ প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি ইউনিট এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭৬৪ ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছে ৫১৫ প্রতিষ্ঠান।
প্রতি কর্মদিবসে বইমেলা বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি থাকবে।








