জুমার নামাজের পর শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার রাজধানীর বনানীর নেভি হেডকোয়ার্টার মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন তিনি। পরে মসজিদের সামনে নামাজে আগত শিশু কিশোরদের সঙ্গে তিনি তিনি স্নেহভরে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
জানা গেছে, মসজিদ চত্বরে প্রধানমন্ত্রীকে দেখা মাত্রই একদল শিশু-কিশোর তাকে ঘিরে ধরে। শিশুদের চোখেমুখে তখন বিস্ময় আর আনন্দ। এরই মধ্যে একজন সাহসী হয়ে প্রশ্ন করে বসল ‘আংকেল, আপনি কি রোজা রেখেছেন?’ শিশুর এ প্রশ্নে মুচকি হাসেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ আমি রোজা আছি।
প্রধানমন্ত্রীর উত্তর শুনে উপস্থিত শিশুদের মধ্যেও শুরু হয় রোজা রাখার গল্প। একে একে সবাই বলতে শুরু করে তারা কে কয়টি রোজা রেখেছে। এক শিশু বেশ বুক ফুলিয়ে দাবি করলো সে সবগুলো রোজা রেখেছে। কিন্তু বিপত্তি বাধলো তার বন্ধুদের মন্তব্যে। পাশ থেকে বন্ধুরা একযোগে বলে উঠলো ‘না না, ও তো আজ সকালেই খেয়েছে, ও আজ রোজা নেই!
বন্ধুদের এমন ‘ফাঁস’ করে দেওয়া মন্তব্যে শিশুটি কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়লেও তারেক রহমান হাসিমুখে তাকে কাছে টেনে নেন। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে জানতে চান আসলে সে কয়টি রোজা রেখেছে। তখন শিশুটি লাজুক কণ্ঠে স্বীকার করে ‘আজকের একটা রোজা বাদে সবগুলোই রেখেছি।’
শিশুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ও কারও কারও মাথায় স্নেহভরে হাত রেখে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা রোজা রাখো?’
উত্তরে শিশুরা একসঙ্গে বলে, ‘আমরাও রাখি।’
অপর পাশ থেকে আরেক শিশু বলে ওঠে, ‘আঙ্কেল আমি সবগুলো রোজা রেখেছি।’ প্রধানমন্ত্রী তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘ভেরি গুড।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাসি-খুশিতে মেতে ওঠে শিশুরা। পরে মসজিদ থেকে জুবাইদা রহমান বেরিয়ে আসলে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলে বিদায় জানান।
এ সময় শিশুরা বলে, ‘আঙ্কেল, আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী তাদের দিকে হাত নেড়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যান।
প্রধানমন্ত্রীর এ আন্তরিকতা ও শিশুদের প্রতি স্নেহময় আচরণ উপস্থিত সবার মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী জুমার নামাজ আদায় করে বের হওয়ার সময় শিশু-কিশোরদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানও মসজিদের নারীদের জন্য নির্ধারিত আলাদা স্থানে নামাজ আদায় করেন।
মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার আগে শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন কথোপকথনে তারা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে বলে জানান রুমন।


