এই সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফী। ‘পোড়ামন ২’, ‘পরাণ’, ‘দামাল’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’, ‘তাণ্ডব’ দিয়ে তিনি দর্শকদের কাছে আস্থা অর্জন করেছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে, ঈদ এলেই নির্মাতা রায়হান রাফীর সিনেমার প্রতি আলাদা কদর থাকে!
শুধু সিনেমা নয়, ওয়েব কনটেন্টেও রাফী মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। এবারের ঈদে রাফী নায়ক ছাড়াই চার অভিনেত্রী শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী, মারিয়া শান্তদের নিয়ে ‘প্রেশার কুকার’ নামে একটি সিনেমা আনছেন।
চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রায়হান রাফী জানান, তিনি বিশ্বাস করেন, এই সিনেমা দেখে দর্শকরা সিনেমা হলে নিজেদের রিলেট করতে পারবে।’
“ঢাকা শহরে আমরা যারা বসবাস করি, তারা অনেকটাই ‘প্রেশার কুকার’-এর মধ্যে থাকি। প্রেশার কুকার যেমন গরম, শহরটাও একইভাবে অনেক গরম। এই যন্ত্র দ্রুত রান্না হতে সাহায্য করে। এই শহরে প্রতি সেক্টরে মানুষ অল্প সময়ে সফল হতে চায়। এতে করে রিস্ক বেশি থাকে। কেউ সফল হয়, কেউ খুন হয়। প্রেশার কুকার একটা নামের সিম্বল। একইভাবে ঢাকাকে আমরা প্রেশার কুকার হিসেবে দেখিয়েছি। এখানে একাধিক নারী আছে, যাদের গল্প দেখাবো।”
‘প্রেশার কুকার’ যৌথভাবে প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড এবং কানন ফিল্মস। রাফী বলেন, “সাগর ভাই (ফরিদুর রেজা সাগর) আমার পিতৃতুল্য মানুষ। তিনি ভীষণ সম্মানিত একজন ব্যক্তি। তার সঙ্গে আমি এবার প্রথম প্রযোজনা করছি। অবশ্যই এই সিনেমায় এমন কিছু আছে, যার কারণে পরাণ, সুড়ঙ্গ, তুফান, তাণ্ডবের পর আমি প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছি। আমার প্রথম প্রযোজিত সিনেমা এটি। এর প্রতি আলাদা ইমোশন আছে।”
“অনেকে বলে, রাফী দর্শকদের পালস বোঝে। কেন জানি মনে হচ্ছে ‘প্রেশার কুকার’ দর্শক দেখবে। এখনও পর্যন্ত আমার সিনেমা দর্শক দেখেছে বলে হিট হয়েছে। জানি না, ‘প্রেশার কুকার’ হিট হবে না কিনা, তবে কমার্শিয়াল সিনেমায় নতুন ট্রেন্ড যুক্ত করবে। আইটেম গান, কয়েকটা ফাইট এসব দিয়ে আমরা যে ফরম্যাটে আটকে আছি, সেখান থেকে নতুন ফরম্যাট তৈরি করবে। অনেক নতুন ডিরেক্টর এই ধরনের গল্পে সিনেমা করার সাহস পাবে।”
কথা প্রসঙ্গে রাফী বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে শাকিব ভাইয়ের (শাকিব খান) চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু উনি একা ১০ জন ডিরেক্টরকে তো শিডিউল দিতে পারেন না। নতুন ডিরেক্টরদের কাছে তার শিডিউল পাওয়া স্বপ্নের মতো। শাকিব ভাই যাকে শিডিউল দেবে তার লাইফ পুরা চেঞ্জ হবে। ‘প্রেশার কুকার’র এর মতো সিনেমা যখন চলবে, তখন এই ধরনের সিনেমা নির্মাণ বাড়বে। যেসব সিনেমা কান অথবা অস্কারে পুরস্কার পাচ্ছে সবখানে কী বড় বড় নায়িকা থাকে? উত্তর না! অবশ্যই দেশে বড় সুপারস্টার দরকার আছে, কিন্তু ‘প্রেশার কুকার’ মতো গল্পের সিনেমাও দরকার আছে।
অন্যান্যবার রাফীর সিনেমায় নায়করা থাকতেন। কিন্তু এবার নেই! ব্যবসায়িকাভাবে হিট হওয়া অনেকটা রিস্ক না? রাফীর উত্তর, অবশ্যই ‘প্রেশার কুকার’ রিস্ক প্রজেক্ট। তবে জীবনে রিস্ক না নিলে তো আমি রায়হান রাফী হতে পারতাম না। দেখুন আমার আগে প্রতিটি প্রজেক্টে রিস্ক ছিল, কিন্তু সেগুলো সুপারহিট-ব্লকবাস্টার হয়েছে। সত্যি বলতে ‘প্রেশার কুকার’ তো অনেক বাজেটের সিনেমা না। যে বাজেটে ‘সুড়ঙ্গ’, ‘আয়নাবাজি’, ‘হাওয়া’ হয়েছিল, ঠিকঠাক যেটা দরকার সেই আয়োজনেই করেছি। বাজেট বেশি লাগেনি কারণ আমাদের তো বিদেশে শুটিং করা লাগেনি। এজন্য আমি সেইফ জোনে আছি। দেখুন, আমি রাফী কী বানিয়েছি সেটা দেখার জন্য মানুষ হলে আসলেও সিনেমা হিট হবে। আর মানুষ যদি ভালো বলে তাহলে ব্লকবাস্টার হবে। এতোটুকু বিশ্বাস মানুষ আমাকে করে যে, আমি জগা খিচুড়ি বানাবো না।







