ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
সোমবার রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ডিএমপির জুলাই মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর এদেশে সুন্দর একটা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। উক্ত নির্বাচনে বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত থাকবেন। পুরো পুলিশ বাহিনীর মান-মর্যাদা পুনরুদ্ধারে সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে হবে। নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঢাকা মহানগর এলাকায় পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, মোটরসাইকেল ব্যবহার করে রাজধানীতে অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, জনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য ডিএমপির সকল সদস্যকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া অপরাধ সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সাধারণ জনগণের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করতে হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ বলেন, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস)-এর তথ্য নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে। সিআইএমএসের তথ্যের সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনা তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করবে বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও জানান, ওয়ারেন্ট তামিল ও চার্জশিট দাখিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জুলাই মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন।
মাসিক অপরাধ সভায় জুলাই মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণকে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।







