বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে বিগত কয়েক বছর ছাড়া বাকি জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই কাটিয়েছেন এফডিসিতে! সেই পুরনো কর্মক্ষেত্র এফডিসিতে সোমবার দুপুরেও তিনি এলেন, তবে একেবারে ভিন্ন চেহেরায়, ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবং জীবনে শেষ বারের মতো!
হ্যাঁ। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা প্রবীর মিত্র শেষ বারের মতো এফডিসিতে গিয়েছিলেন সোমবার। সেখানে তার অপেক্ষায় ছিলেন সহকর্মীরা। এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক আলমগীর, উজ্জ্বল, ইলিয়াস কাঞ্চন, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, নির্মাতা ছটকু আহমেদ, খোরশেদ আলম খসরু সহ অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী ও এফডিসির কর্মকর্তা কর্মচারিরা।
প্রবীর মিত্রের মরদেহ সামনে রেখে এসময় তার উদ্দেশ্যে শোক প্রকাশ করেন উপস্থিত সহকর্মী অভিনেতা অভিনেত্রীরা। পরে সেখানেই হয় প্রথম নামাজে জানাজা। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন প্রবীর মিত্র। এফডিসিতে প্রথম জানাজা শেষে অভিনেতার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি রওনা হয় চ্যানেল আইয়ের উদ্দেশে।
জানা যায়, চ্যানেল আই চত্বরে হবে অভিনেতা প্রবীর মিত্রের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে আজিমবুর কবরস্থানে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বহু কালজয়ী সিনেমার এই গুণী অভিনেতা।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনায় জন্মগ্রহণ করেন প্রবীর মিত্র। তার পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র। পুরান ঢাকায় বড় হওয়া প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
স্কুলজীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। পরবর্তীতে পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে ‘জলছবি’ নামে একটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েছে বড়পর্দায় তার অভিষেক হয়। মূলত এ ছবিতে কাজের ব্যাপারে তার বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামানই তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ১৯৪০ সালে পুরনো ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চাবুক’-এর মতো সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে প্রবীর মিত্রকে। এছাড়া ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ সিনেমায় মূখ্য চরিত্রে ছিলেন তিনি। এ কারণেই অনেকে তাকে ঢাকাই সিনেমার ‘রঙিন নবাব’ বলে ডাকেন।
তার অভিনীত অনান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে- জীবন তৃষ্ণা, সীমার, তীর ভাঙা ঢেউ, প্রতিজ্ঞা, অঙ্গার, পুত্রবধূ, নয়নের আলো, চাষীর মেয়ে, দুই পয়সার আলতা, আবদার, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ ইত্যাদি।অনলাইন ফিল্ম স্ট্রিমিং পরিষেবা
কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮২ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান প্রবীর মিত্র। আর ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।








