পর্তুগালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, তারা অনুমোদনহীনভাবে বসবাসরত প্রায় ১৮,০০০ বিদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি আগামী ১৮ মে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে নেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্সি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান্তোনিও লেইটাও আমারো জানিয়েছেন, সরকার আগামী সপ্তাহ থেকে প্রায় ৪,৫০০ বিদেশিকে ২০ দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের জন্য অনুরোধ করবে। বাকি ১৩,৫০০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কারের নোটিশ জারি করা হবে। এই পদক্ষেপটি পর্তুগালের অভিবাসন নীতির কঠোরীকরণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘোষণার সময়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি এমন একটি সময়ে এসেছে যখন পর্তুগালে অভিবাসন এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ফার-রাইট চেগা পার্টি গত বছরের নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং তারা অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগাল মোট ২৩০ জন অভিবাসীকে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছিল, তবে কার্যকর বহিষ্কারের হার ছিল মাত্র ৬%। অভিবাসন ও সীমান্ত সেবা বিলুপ্তির পর, নতুন জাতীয় অভিবাসন ও সীমান্ত ইউনিট গঠন করা হয়েছে, যা বহিষ্কারের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
সরকার জানিয়েছে যে তারা জুন ২০২৫ সালের আগেই ৪০০,০০০ পেন্ডিং আবেদনের মধ্যে ১০৮,০০০ অভিবাসীর আবেদনের পুনঃমূল্যায়ন করবে। এটি অভিবাসন নীতির আরও কঠোর বাস্তবায়ন এবং নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেয়।
এই পদক্ষেপগুলো পর্তুগালের অভিবাসন নীতির একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং এটি দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন অনেক অভিবাসী বিশেষজ্ঞ। পর্তুগালে দীর্ঘ দিন থেকে বসবাস করা অনেক বাংলাদেশিই জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।








