এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বিশ্বের বহ প্রভাবশালী মুসলিম দেশ যখন ইজরায়েল ফিলিস্তিনি যুদ্ধ নিয়ে চুপচাপ, ঠিক তখনই ফিলিস্তিনিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইউরোপের দেশ পর্তুগাল।
আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও স্পেনের পর এবার পর্তুগালও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল। একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের আগেই রবিবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ না থাকলেও আগেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল পর্তুগাল। তবে ইউরোপের দেশগুলোর এ পদক্ষেপ ভালোভাবে নেয়নি ইসরায়েল।
নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের নৃশংসতাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করবে।
ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও একই অবস্থান নিয়েছে। লন্ডন সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন।
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০১২ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে অবজারভার স্টেট মর্যাদাও দেয়।
মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া ইউএনজিএ অধিবেশনকে সামনে রেখে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন। তখন গাজা সিটিতে ইসরায়েলের স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ট্যাংক ও সেনাদের অগ্রযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে আশ্রয় ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাস নেতৃত্বাধীন হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৫ হাজার ১৪১ জন নিহত হয়েছেন।







