এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দেশে প্রতি লাখে ১১৪ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতি লাখে ১২০ জন পুরুষ এবং প্রতি লাখে ১০৮ জন নারী ক্যান্সারে আক্রান্ত। দেশের ক্যান্সার আক্রান্ত পরিস্থিতি জানতে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম তথ্য প্রকাশ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ’র পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগ এর উদ্যোগে ওই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজশাধীর শাহবাগে সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং গবেষণা কাজের প্রধান গবেষক ডা. মো. খালেকুজ্জামান ক্যান্সার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
ওই গবেষণা তথ্য অনুযায়ী ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীরাই সবচেয়ে বেশি ক্যান্সারে ভুগছেন। ১৮ দশামিক ০ শতাংশ পুরুষ এবং ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। পুরুষদের মধ্যে স্বরনালীর ক্যান্সারের হার সবচেয়ে বেশি ১৩ দশমিক ২ শতাংশ এর পরেই রয়েছে পাকস্থলি ১০ দশমিক ২ শতাংশ। ঠোট ও মুখগহ্বর ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, ফুসফুস ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং খাদ্যনালীর ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ক্যান্সার।
একইভাবে নারীদের মধ্যেমে স্তন ক্যান্সারের হার সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ৪ শতাংশ, এছাড়াও শীর্ষে রয়েছে জরায়ু ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, ঠোঁট ও মুখগহ্বর ১০ দশমিক ৮ শতাংশ, থায়রয়েড ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ওভারির ক্যান্সার এর মধ্যে জনসংখ্যাভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন করেছে ২৭ হাজার তথ্য অনুযায়ী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ, ১১ দশমিত ৩ শতাংশ ডায়াবেটিস ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হৃদরোগে এবং ৩ শতাংশ হারে স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতায় ভুগছে।
গত বছর এক জুলাই থেকে চলতি বছর ৩০ জুন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদি, শাহেদল, আড়াইবাড়িয়া এবং গোবিন্দপুর ওই গবেষণা পরিচালিত হয়। ওই কার্যক্রমের আলোকে ক্যান্সার রেজিস্ট্রির অর্ন্তভুক্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৭’শ ৮৭ বাড়িতে থাকা প্রায় সোয়া লাখের কিছু বেশি মানুষ।
সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, ওই রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রমে অন্ততপক্ষে ৫ লাখ মানুষকে রেজিস্ট্রির আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যেমে সারাদেশে ক্যান্সারের মত মরণ রোগে আক্রান্তদের বয়স লিঙ্গ এবং অঞ্চল ভেদে ক্যান্সারের প্রকোপ ও আক্রান্তের সংখ্যা জানা যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমীন বলছেন, দেশে ক্যান্সার প্রকোপ বাড়ার ক্ষেত্রে জীবনধারণ ও খাদ্যাভাসহ আর কোন বিষয় প্রভাব ফেলছে, তা নির্ণয় করে ক্যান্সারের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এই গবেষণা জরিপ কাজে দেবে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগ ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ অন্য ঘাতক রোগ নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পরবর্তী সমন্বিত কার্যক্রম নেয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।







