ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও নির্মাতা রেদওয়ান রনির বিরুদ্ধে পেশাগত হয়রানির অভিযোগ তোলা তারই প্রাক্তন সহকারী নির্মাতা শৌভ রহমান রনির বিরুদ্ধে এবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চরকিতে কর্মরত শাহরিয়ার সাগর গেল ১২ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
চ্যানেল আই অনলাইনের হাতে আসা জিডির কপিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শৌভ রহমান দীর্ঘদিন ধরে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চরকিতে কাজ দেওয়ার জন্য অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আসছেন।
জিডি অনুযায়ী,২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল বিনা নোটিশে চরকির কারওয়ান বাজার অফিসে গিয়ে শৌভ রহমান কাজ পাওয়ার জন্য চাপ দেন। পরবর্তীতে জমা দেওয়া তার গল্পগুলো ‘মানসম্মত নয়’ বলে কন্টেন্ট সিলেকশন টিম বাতিল করে দেয়। এর পর থেকেই তিনি অনৈতিক সাহায্যের দাবি, ক্ষতির হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেদওয়ান রনি ও চরকির বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর শৌভ রহমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ে আবারও হুমকি দেন— কাজ না দিলে রনি ও চরকির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হলুদ সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ এবং ইউটিউবারদের দিয়ে অপবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করবেন বলেও হুমকি দেন।
জিডিতে দাবি করা হয়েছে, একই ধরনের আচরণ তিনি চরকির কনটেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড’-এর এক নারী কর্মীর সঙ্গেও করেছেন, যার মধ্যে গালাগালি, শ্লীলতাহানি ও সহিংসতার হুমকি ছিল।
এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চ ও জুলাই মাসে রেদওয়ান রনির পাবনার স্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে অনৈতিক সুবিধা না পেলে ক্ষতি করার হুমকি দেন শৌভ। গেল ৪ আগস্ট চরকির অফিসে তার বাবা ও বন্ধুকে নিয়ে বৈঠকেও উপস্থিত হন তিনি। সেখানে তার বাবার অনুরোধে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শেখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শৌভ রহমান অস্বীকৃতি জানান এবং ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ফাঁসানোর হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তার বাবার নিষেধ সত্ত্বেও শৌভ রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি গেল সপ্তাহে একটি কুৎসামূলক পোস্ট দেন, যা রনি ও চরকির ব্যবসায়িক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতি করেছে।
চরকির পক্ষে শাহরিয়ার সাগর জিডিতে উল্লেখ করেছেন, এসব ঘটনায় তারা শারীরিক, পারিবারিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই আইনি আশ্রয় চেয়েছেন। জিডির কপিতে যেসব বিষয়ে শৌভর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সংশ্লিষ্ট প্রমাণও যুক্ত করা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গেল ৭ আগস্ট মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে চরকির সিই্ও এবং নির্মাতা রেদওয়ান রনির বিরুদ্ধে বেশকিছু লিখিত অভিযোগ জানান শৌভ। যেখানে তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালে রেদওয়ান রনির সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই তিনি ব্যক্তিগত বিরাগের শিকার হচ্ছেন। প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করছেন বলেও অভিযোগ করেন শৌভ।







