‘চিৎকার করো মেয়ে, দেখি কতদূর গলা যায়’ স্লোগানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কবিতা আবৃত্তির আয়োজন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, গত দু’দিনে বা তার আগে থেকে ফেসবুকে চোখ রাখলেই মনে হয়েছে আবেগ এবং বেদনার প্লাবন বয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদের প্লাবন বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই বাস্তবে মানুষ ততোটা প্রতিবাদী না। ভার্চুয়াল জগত থেকে বেরিয়ে বাস্তব জগতে সবাইকে প্রতিবাদমুখর হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি এ ধরনের আয়োজন আমাদের স্কুল-কলেজগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে করা উচিত। তাহলে সচেতনতা বাড়বে।
সংক্ষিপ্ত কথন শেষে শুরু হয় কবিতার পরিবেশনা। দোলায়িত ছন্দে উচ্চারিত হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘দুঃসময়’, শঙ্খ ঘোষের ‘বলো তারে শান্তি শান্তি’, তসলিমা নাসরিনের ‘সবিতার কবিতা’, শুভ দাশগুপ্তের ‘আমিই সেই মেয়ে’, সৌমেন অনন্তের ‘সেই মেয়েটা’, খলিল জিবরানের কবিতা ‘এবং ভয়’ এবং আকাশ চক্রবর্তীর ‘চিৎকার করো মেয়ে, দেখি কতদূর গলা যায়’ সহ বেশ কিছু কবিতা।
এসব কবিতা আবৃত্তি করেন তাহসিন রেজা, অনন্যা মাহমুদ, লায়লা নওশিন, মাহি ফারহানা, ফারজানা সিদ্দিকা, আশরাফুল হাসান, তামান্না, বুশরা আহমেদসহ অন্যান্য আবৃত্তিশিল্পীরা। ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিবাদী অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন লায়লা নওশিন, অনন্যা মাহমুদ ও তাসনুভা মোহনা।
আবৃত্তি পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে ছিল নারীর চলার পথের প্রতিবন্ধকতার কথা। সেই সূত্র ধরে আবৃত্তিশিল্পীরা বলেন, বিশ্বব্যাপী সমাজ ও সভ্যতা এগিয়ে গেলেও বাংলার নারীরা এই উত্তরাধুনিক যুগেও তাদের চলাফেরা, পোশাক-আশাক আর শুধু নারী হওয়ার কারণে নির্যাতিত হচ্ছে নানাভাবে। বাদ যাচ্ছে না কন্যাশিশুও।
ধর্ষণ, শারীরিক নিপীড়ন, নির্যাতন, বুলিং, মৌলবাদীদের দ্বারা বুলিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুলিং এগুলো নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের পূর্বসূরী নারীরা যেভাবে অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে, শিল্প-সাহিত্যে সাহসী উচ্চারণ করেছেন অধিকার প্রতিষ্ঠায়, আমরাও হাঁটবো সেই পথে। আমরা চাই সমাজে দিন কিংবা রাতে পছন্দমতো পোশাক পরে স্বাধীনভাবে চলাচল করবে নারী। এই ধরনের আয়োজন আগামীতেও বজায় রাখার কথা জানান আয়োজকরা।








