মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে আসন্ন ঝুঁকি উল্লেখ করে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মারকোস।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এতে তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি আমদানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল ফিলিপাইন এ পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
নির্বাহী আদেশে মারকোস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহের প্রাপ্যতা ও স্থিতিশীলতার ওপর আসন্ন ঝুঁকির কারণে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো।’
তিনি জানান, এই ঘোষণার ফলে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারবে, যাতে অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলা করা যায়।
জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, বিতরণ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ জরুরি অবস্থা এক বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।
এর আগে দেশটির কয়েকজন সিনেটর তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর জরুরি পরিস্থিতির মতো চাপ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার জ্বালানি সচিব শ্যারন গারিন জানান, দেশটির হাতে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর দাম বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। গত বছর এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার গন্তব্যে পাঠানো হয়েছিল।








