কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চমক দেখাচ্ছিল চ্যাটজিপিটি। ওপেন এআইয়ের এই বিশেষ টুলটির ক্ষমতায় অবাক অনেকেই। এমন প্রশ্নও উঠেছিল, তবে কি মানুষের পারদর্শিতাকেও ছাপিয়ে যেতে চলেছে যন্ত্রের দাপট? আগামী দিনে এই চ্যাটজিপিটির জন্য চাকরি হারাতে হবে, এই ভয় পাচ্ছিলেন অনেকেই।
তাদের জন্য কিছুটা হলেও সুখবর। কারণ চ্যাটজিপিটির দৌড়ের লাগাম কিছুটা থামল এবার। মানুষের মেধার কাছে হার মানল এই কৃত্রিম মেধা। বিশেষ একটি পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি’র চেয়ে অনেক গুণ ভালো ফল করেছে রক্তমাংসের ছাত্র-ছাত্রীরাই।
এনডিটিভি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিগহ্যাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা চ্যাটজিপিটির ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখার জন্য সম্প্রতি অ্যাকাউন্টিং এর একটি পরীক্ষার আয়োজন করেছিলেন। পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ছিল এআইএস, অডিটিং, আর্থিক অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজারিয়াল অ্যাকাউন্টিং এবং ট্যাক্স সম্পর্কিত। পরীক্ষার ফল হাতে আসার পর তা অ্যাকাউন্টিং বিষয়ক একটি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, হিসাবনিকাশের এই বিষয়ে অনেকটাই পিছিয়ে চ্যাটজিপিটি। তার প্রাপ্ত নম্বর মাত্র ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, যেসব ছাত্রছাত্রী ওই একই পরীক্ষায় বসেছিল তাদের প্রাপ্ত নম্বরের গড় ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বটটিকে গাণিতিক ভুলও করতে দেখা গেছে পরীক্ষায়। যেমন বিয়োগের জায়গায় যোগ করা বা সংখ্যাগুলোকে ভুলভাবে ভাগ করা।
পরীক্ষার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রশ্নে ছাত্রছাত্রীদের চেয়ে চ্যাটজিপিটির ফল ভাল। অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেমে ভাল ফল করেছে এই কৃত্রিম মেধা। কিন্তু চ্যাটজিপিটি আটকে গিয়েছে ট্যাক্স, অর্থনীতি এবং ব্যবস্থাপনাগত বিষয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাকাউন্টিং এর এই ধরণের পরীক্ষায় যে গাণিতিক পারদর্শিতা প্রয়োজন হয়, তাতে চ্যাটজিপিটি দুর্বল।
যেকোনও ভাষার লেখা পড়তে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটি। সত্য বা মিথ্যা প্রশ্নগুলোর ক্ষেত্রে তার ফল একেবারে নির্ভূল। কিন্তু ছোট ছোট ব্যাখ্যামূলক উত্তরের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি হোঁচট খেয়েছে বারবার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যর্থতা নিয়ে বিশেষজ্ঞেরা নতুন করে চর্চা শুরু করেছেন এবার।








