পেনাল্টি শ্যুটআউটে প্রথম শট নিতে এসে গড়বড় করে বসেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার নেয়া পানেনকা শট পোস্টের উপরের বারে লেগে বেরিয়ে যায়। বল জালে জড়াতে না পারায় নিজের উপর বেশ রেগে গিয়েছিলেন এলএম টেন।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের বীরত্বে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে মেসির শট মিসের চড়ামূল্য আকাশী-নীলদের দিতে হয়নি। ম্যাচ শেষে বিশ্বজয়ী মেসি সেসময়ের প্রতিক্রিয়া জানান।
‘আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম। নিশ্চিত ছিলাম বলটা এমনভাবে লাথি মারব। দিবুর (এমিলিয়ানো) ও রুল্লির সাথে কথা বলেছিলাম। ম্যাচের আগে কয়েকটা পেনাল্টি কিক নিয়েছিলাম। অনুশীলন করিনি, তবে তাদের সাথে কথা বলেছি। বেশ কয়েকটি ক্রস শটে কিক নিয়েছিলাম। আসলে গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বল স্পর্শের চেষ্টা করেছিলাম এবং এটি উপর দিয়ে চলে গেছে।’
অ্যাঞ্জেল মেনা ও অ্যালেন মিন্ডার শট এমিলিয়ানো মার্টিনেজ প্রতিহত করায় কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে আলবিসেলেস্তে দল। বাজপাখি খ্যাত আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে নিয়ে মেসির কণ্ঠে ঝরছে প্রশংসা, ‘আমি জানতাম, এই মুহূর্তগুলোতে দিবু সবসময় থাকে। তাদের মতো খেলোয়াড়রা এই মুহূর্তগুলো পছন্দ করে, দুর্দান্ত হয়ে ওঠে। গোলপোস্টের নিচে থাকলে তারা দুর্দান্ত। ’
ইকুয়েডর যে মাঠে ছেড়ে কথা বলবে না, সেই অনুমান আগেই করেছিলেন মেসি। টাইব্রেকারে গড়ানোয় ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এলএম টেনের কথায়, ‘পরিস্থিতি জটিল ছিল। তারা খুব দ্রুতগতির ছিল। আমাদের নিজেদের উপর আস্থা ছিল। এমনকি খেলার আগে টাইব্রেকারের সম্ভাবনা নিয়ে রসিকতা করেছিলাম। বলেছিলাম পেনাল্টি শ্যুটআউটে আমরা শান্ত থাকবো।’
‘আমরা জানতাম কঠিন লড়াইয়ের ম্যাচ হতে চলেছে। সম্প্রতি তাদের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছি। আমরা জানি, তারা কীধরনের খেলোয়াড় এবং কেমন খেলে। আমরা যেমন আশা করেছিলাম, তাই হয়েছে। তাদের খুব ভালো খেলোয়াড় আছে। খুব গতিশীল ও শক্তিশালী দল।’
‘মাঠ আপনাকে নিজের ইচ্ছামতো দ্রুত খেলার মতো অবস্থায় থাকতে দেয় না। ডিফেন্ডারের জন্য সবসময় কাজটা সহজ করে তোলে। তারা একটি দুর্দান্ত দল, আমরা জানতাম তাদের বিপক্ষে একটি খুব কঠিন কোয়ার্টার ফাইনাল হতে চলেছে।’
চোটে পড়ে গ্রুপপর্বে শেষ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে না খেলা লিওনেল মেসিকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল। শেষপর্যন্ত মাঠে নামেন। ৩৭ বর্ষী মহাতারকা ফিটনেস নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেছেন।
‘অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছি। একটু একটু করে অনুশীলন চালিয়ে নিতে হবে। খানিক ভয় মনের ভেতর আছে। সবশেষ অনুশীলন সেশনে আগের চেয়ে আরও ভালো অনুভব করেছি।’
‘এখন ভালো অনুভব করেছি, কোনো অস্বস্তি নেই। চোটের জন্য অস্বস্তি ও মানসিকভাবে ভয়টা সবসময় আছে। কিন্তু পেশিতে কোনো অস্বস্তি ছিল না। কোচ আমাকে জিজ্ঞাসা করেন খেলতে প্রস্তুত কিনা। আমি, হ্যাঁ বলেছিলাম।’







