জিমন্যাস্টিকসে মেয়েদের দলগত ফাইনালে প্যারিস অলিম্পিকে সোনা জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। আসরে দেশটির চতুর্থ সোনার হাসি। ইভেন্টের সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন তারকা জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলস। তিন বছর আগে মানসিক অবসাদে ভুগে টোকিও অলিম্পিক থেকে সরে যাওয়ার দুর্বিষহ স্মৃতি ফেলে আবারও গলায় ঝোলালেন অলিম্পিক পদক।
টোকিওতে তিন বছর আগে ফেভারিট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র জিমন্যাস্টিকসে অংশ নেয়। দলগত ইভেন্টে দেশটি অপ্রত্যাশিতভাবে রৌপ্য জেতে। বাইলসের ফাইনাল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়া আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেসময় ‘টুইস্টিজ’ নামে এক মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। জিমন্যাস্টরা শরীর যখন উঁচুতে উঠে ভাসমান থাকা অবস্থায় মনোযোগ হারান, তাকে বলে ‘টুইস্টিজ’। সেবার তিনি আরেকটি ইভেন্টে জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ।
দুবছরের লম্বা বিরতির পর গত গ্রীষ্ম মৌসুমে ২৭ বর্ষী বাইলস আবারও জিমন্যাস্টিকসে ফেরেন। দীর্ঘ বিরতির পরও সেরা ছন্দে ছিলেন। প্যারিসে দেখালেন জলজ্যান্ত প্রমাণও। বিশ্বের বৃহত্তর ক্রীড়া আসরে আনলেন পঞ্চম স্বর্ণপদক। ২০১৬ রিও ডি জেনেইরো অলিম্পিকে পৃথক চারটি ইভেন্টে স্বর্ণ ও একটিতে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন মার্কিন এ কৃষ্ণকলি।
অতীতের দুর্বিষহ স্মৃতি পেছনে ফেলে স্বর্ণ জিতে উচ্ছ্বসিত বাইলস বলেছেন, ‘সকালে থেরাপি দিয়ে শুরু করেছি। এটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। আমার থেরাপিস্টকে বলেছিলাম, আমি শান্ত এবং নিজেকে প্রস্তুত বলে অনুভব করছি। ভল্ট শেষের পর স্বস্তি পেয়েছি। কারণ অন্তত কোনো পেছনের স্মৃতি বা কিছুই ফিরে আসেনি। ভল্টে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মনে হয়েছিল, অবশ্যই ঠিকঠাক করতে চলেছি।’
‘মনে করি ২০১৬ সালে আমাদের ভাগ্যে সোনা জয় ছিল। সবাই আগে থেকেই বলেছিল, আমরা সোনা জিততে চলেছি। সবমিলিয়ে দারুণ রোমাঞ্চকর ছিল সবকিছু। আমরা মজা করেছি, পরস্পরের সঙ্গে সময়টা উপভোগ করেছি এবং জিমন্যাস্টিকস করেছি।’
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ২৩টি সোনা জয়ের দারুণ কীর্তির অধিকারী বাইলস। প্যাসিফিক রিম চ্যাম্পিয়নশিপসে বাগিয়েছিলেন আরও দুটি স্বর্ণ। অলিম্পিক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও প্যাসিফিক রিম চ্যাম্পিয়নশিপস মিলিয়ে তার মোট পদক ৩৮টি। তিনি ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জিমন্যাস্টদের একজন হিসেবে বিবেচিত।
বাইলস প্যারিস অলিম্পিকে আরও চারটি ইভেন্টে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বৃহস্পতিবার অল-রাউন্ড ফাইনাল, শনিবার ভল্ট ফাইনাল এবং সোমবার ফ্লোর এবং বিম ব্যালান্সের ফাইনালে অংশ নেবেন।








