ইসরায়েলি চলচ্চিত্র প্রকল্প বয়কটের একটি অঙ্গীকারে এমা স্টোন, জোয়াকিন ফিনিক্স, অস্কারজয়ী অলিভিয়া কোলম্যান, টিল্ডা সুইন্টন, রিজ আহমেদ, জাভিয়ার বারদেম এবং মার্ক রাফালোর মতো চার হাজারেরও বেশি হলিউড তারকা স্বাক্ষর করার পর তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিখ্যাত চলচ্চিত্র স্টুডিও প্যারামাউন্ট।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এই বয়কটের ডাক দেয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা। “ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন” নামক একটি সংস্থার উদ্যোগে গত ৮ সেপ্টেম্বর এই অঙ্গীকারপত্রটি প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিখ্যাত অভিনয়শিল্পীরাও স্বাক্ষর করেন।
এই অঙ্গীকারে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে ৬৪,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।
১২ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারামাউন্টই প্রথম বড় কোনো স্টুডিও যারা এই বয়কটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে।
এক বিবৃতিতে প্যারামাউন্ট জানায়, “আমরা ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বয়কট করার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার সাথে একমত নই। শুধুমাত্র জাতীয়তার ভিত্তিতে স্বতন্ত্র সৃজনশীল শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করা হলে তা পারস্পরিক বোঝাপড়াকে উৎসাহিত করে না বা শান্তির পথেও অগ্রসর হয় না। আমাদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা এবং যোগাযোগ প্রয়োজন – কম নয়।”
প্যারামাউন্টের এই বিবৃতির জবাবে “ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন” অভিযোগ করেছে যে, স্টুডিওটি “চলচ্চিত্র শিল্পে আমাদের সহকর্মীদের চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ইচ্ছাকৃতভাবে অঙ্গীকারটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।”
সংগঠনটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে জানায়, “এমন একটি পদক্ষেপ কেবল একটি গণহত্যাকারী শাসনকে সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা করবে, যখন বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ দ্রুতগতিতে বাড়ছে এবং অনেকেই জবাবদিহিতার জন্য অর্থবহ পদক্ষেপ নিচ্ছেন।”
তারা আরও বলেন, “গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা প্রায় দুই বছর ধরে চলার পরেও যখন এর কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না, তখন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা বুঝতে পারছেন যে, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কথা ধার করে বললে, একটি অশুভ ব্যবস্থা থেকে নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করা একটি অপরিহার্য দায়িত্ব যা তারা আর উপেক্ষা করতে পারে না।”
সংগঠনটি ইসরায়েলি চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, যদি তারা অঙ্গীকারে স্বাক্ষরকারী তারকাদের সাথে কাজ চালিয়ে যেতে চায়, তবে তাদের “ইসরায়েলের গণহত্যা ও বর্ণবাদে জড়িত থাকা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ফিলিস্তিনি জনগণের পূর্ণ অধিকারকে সমর্থন করতে হবে।”- ইউএসএ টুডে







