মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনায় হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কার মধ্যেই খবর এসেছে, পাকিস্তান নাকি ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। যদিও এই খবরের সত্যতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে এটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, পাকিস্তান ইরানের প্রতি তাদের “পূর্ণ সমর্থন” ঘোষণা করেছে। উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে ইরানকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত। এমনকি কিছু খবরে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানি ফাইটার জেট ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশও করেছে। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নিশ্চিতকরণ আসেনি। এর আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে অসমর্থিত সংবাদে জানা গেছে। এই হামলায় ইরানের বেশ কিছু সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ইসরায়েলি হামলায় ৭৮ জন নিহত ও ৩২৯ জন আহত হওয়ার খবরও প্রকাশ পেয়েছে। এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েলের দিকে শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, সকল ইরানি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। এরপর ইসরায়েল নিজেদের দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলের ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এই সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিলে তা পুরো বিশ্বের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। পাকিস্তানের কথিত ইরান সমর্থনের খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে, পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে অতীতেও সীমান্ত সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যা এই অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি কথিত সমর্থন এবং যুদ্ধবিমান পাঠানোর খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে, এই সংবাদের সত্যতা এবং এর ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে জানতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।








