দীর্ঘ টানাপোড়েন ও সীমান্ত সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারে, তবে যুদ্ধবিরতি কতদিন টিকবে— তা নির্ভর করবে সীমান্তে বাস্তব পরিস্থিতি এবং টিটিপি ইস্যুতে আফগান সরকারের অবস্থানের ওপর।
জিও নিউজ জানিয়েছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় দুই দেশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের অভিযোগ যে, আফগান তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। তবে আফগানিস্তান সবসময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তুরস্কের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয়েই যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে আবারও বৈঠকে বসবেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধি দল। এর আগ পর্যন্ত সীমান্তে যেন কোনো ধরনের সংঘাত না ঘটে— সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উভয় দেশ।
সম্প্রতি ৯ অক্টোবর কাবুলে টিটিপি নেতাদের ওপর বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এতে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদসহ কয়েকজন নিহত হন। জবাবে ১১ অক্টোবর সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাচৌকি লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগান বাহিনী। প্রতিক্রিয়ায় দু’দেশের সেনাদের মধ্যে কয়েকদিন ভয়াবহ সংঘর্ষ চলে, যাতে ২০০ জনের বেশি আফগান সেনা এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন।
সংঘাত থামাতে ১৫ অক্টোবর দুই দেশ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এরপর শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৮ অক্টোবর দোহায় এবং পরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নতুন করে আলোচনায় বসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিরা। মধ্যস্থতা করে কাতার ও তুরস্ক। অবশেষে ৩০ অক্টোবর দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়।








