পাকিস্তান আবারও ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে। সোমবার (১১ আগস্ট) সিন্ধ সরকারের সংস্কৃতি বিভাগের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে সাবেক পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো ভারতকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বলছেন, ২২ এপ্রিল পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিনদুর’ এবং ইন্দাস পানি চুক্তি স্থগিত করার ফলে পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের সকল মানুষকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য বড় ধরণের ক্ষতি সাধন করেছে। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোদি সরকারের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
তিনি আরও জানান, যদি ভারত ইন্দাস পানি চুক্তি স্থগিত করার কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তাহলে পাকিস্তানের কাছে যুদ্ধ ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী, আমরা আমাদের ছয়টি নদী ফিরে পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। ভারত যদি এই পথে চলতে থাকে, তাহলে আমাদের সব অপশন বিবেচনা করতে হবে, যার মধ্যে যুদ্ধও অন্যতম।
ভুট্টো স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি। কিন্তু যদি ‘সিনদুরের মতো’ কোনো আক্রমণ চালানো হয়, তবে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশের মানুষ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এটা এমন একটি যুদ্ধ যা ভারত অবশ্যই হারবে। আমরা মাথা নত করব না।
এর আগে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রধান আসিম মুনির পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা একটি পারমাণবিক জাতি। যদি আমরা হারতে যাই, তাহলে বিশ্বের অর্ধেককে নিয়ে নেব। আমাদের মিসাইলের কোনো অভাব নেই।
মুনির আরও বলেন, ভারত যদি ইন্দাস নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করে, আমরা ১০টি মিসাইল দিয়ে তা ধ্বংস করব। ইন্দাস নদী ভারতীয় পরিবারের সম্পত্তি নয়। তিনি ইন্দাস পানি চুক্তি স্থগিত থাকলে ২৫ কোটি মানুষের খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।
ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া
ভারত পাকিস্তানের এই পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকিকে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রকে হুমকিস্বরূপ ব্যবহার করা পাকিস্তানের প্রতিটি দিনের স্টক-ইন-ট্রেড। তারা আরও দুঃখ প্রকাশ করেছে যে, এই মন্তব্যগুলো একটি বন্ধুপ্রতিম তৃতীয় দেশের মাটিতে করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্যের মধ্যে যে অবহেলা নিহিত আছে, তা আন্তর্জাতিক সমাজ নিজেই উপলব্ধি করতে পারবে। এছাড়াও, এটি একটি দেশের পারমাণবিক কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ সৃষ্টি করে, যেখানে সামরিক বাহিনী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে, পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল বা হুমকিতে আমরা কখনোই ঝুঁকব না এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখব।








