সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খোলা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। দুই দেশের সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম উইওন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপে দাবি করা হচ্ছে, আফগানিস্তানে সর্বশেষ বিমান অভিযানে তালেবানের গোপনীয় সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি ঘটেছে কান্দাহারে যে শহরটি হাইবাতুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিছু গণমাধ্যমে এমন দাবিও উঠেছে যে পাকিস্তানি হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তালেবান বা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কে?
২০১৬ সাল থেকে তিনি তালেবানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি “ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান”-এর সর্বোচ্চ নেতা হিসেবেও দায়িত্বে আছেন। হাইবাতুল্লাহ খুব কম জনসমক্ষে আসেন; তালেবান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন।
তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে। জনসমক্ষে কম উপস্থিতির কারণে অতীতে তার অসুস্থতা বা মৃত্যুর গুজব একাধিকবার ছড়িয়েছে।
কেন পাকিস্তান তালেবানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালালো?
ডুরান্ড লাইনে সাম্প্রতিক সীমান্ত হামলা ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর পাকিস্তান বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালায়। পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ড থেকে তাদের বাহিনীর ওপর হামলা চালানো জঙ্গি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অপারেশন গজব লিল হক নামে অভিযানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেট–খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি)-এর মতো সংগঠনের ক্যাম্প ও ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে ইসলামাবাদের দাবি। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, এসব সংগঠন আফগানিস্তানকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।








