মাঘের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে লেগেছে নব ঋতুর ছোঁয়া। পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ফাল্গুনের প্রথম দিন। একই দিনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফলে বসন্ত আর প্রেমের আবহে দিনটি পেয়েছে বিশেষ মাত্রা।
বসন্ত ও ভালোবাসা যেন এক সুতোয় গাঁথা। পহেলা ফাল্গুনে বসন্তবরণের আনন্দে মেতে ওঠে তরুণ-তরুণীরা, নবউদ্যমে উজ্জীবিত হন প্রবীণরাও। প্রকৃতির পাশাপাশি রঙিন হয়ে ওঠে মানুষের মন। তাই বসন্তকে অনেকেই বলেন ‘প্রেমের ঋতু’। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর ১৪টি উৎসব চালু করেন, যার একটি ছিল বসন্ত উৎসব। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজও রঙ, রূপ, রস আর লাবণ্যে ভরপুর বসন্ত উদযাপিত হয়।
দখিনা হাওয়ার মৃদু পরশে গাছের নতুন পাতায় জেগে ওঠে প্রাণ। ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন, মাঠ-প্রান্তর-অরণ্যে নবযৌবনের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতির এ রূপ দেখে কবিগুরু লিখেছিলেন, ‘ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে।’
পশ্চিমা সংস্কৃতির ভ্যালেনটাইনস ডে-ও এসে মিশেছে আমাদের বসন্ত উৎসবে। দিনটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে শুভেচ্ছা বিনিময়।
বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকলা একাডেমি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে থাকছে বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসের আয়োজন। হলুদ শাড়ি আর গাঁদাফুলে সেজে তরুণীরা বের হচ্ছেন, প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা আর আনন্দে কাটছে দিন।
এবারের বসন্ত যেন প্রিয় মানুষকে আরও কাছে পাওয়ার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। পোশাক, সংগীত ও ভাবনায় ফুটে উঠছে প্রেমের প্রকাশ। তবে বসন্ত কেবল প্রেমের ঋতু নয়; এটি বাঙালির সংগ্রামের সঙ্গেও জড়িত। এমনই এক বসন্তে ভাষার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল বাঙালি জাতি। তাই বসন্ত মানে নবজাগরণ, নবচেতনা ও আত্মপরিচয়েরও প্রতীক।
প্রকৃতি ও প্রাণে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়ে এবারের বসন্ত আনন্দে ভরিয়ে তুলুক আকাশ-বাতাস।
যেভাবে এলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন রোমের দুটি প্রচলিত প্রথা থেকে ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি। খ্রিষ্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামেই দিনটির নামকরণ ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’।
২৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসা করার অভিযোগে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার প্রিয়জনকে একটি চিঠি লেখেন এবং তাতে স্বাক্ষর করেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। পরবর্তীতে তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালনের প্রচলন শুরু হয়।
ক্রমে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে প্রেম ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে মিলেমিশে নিজস্ব রূপ ধারণ করে।








