জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রায় ৫০টি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার (৩০ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ভবনের উত্তর পাশে বনাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের সম্প্রসারিত ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য গাছগুলো কাটা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন নিয়ে অংশীজনদের আলোচনা চলছিল, অথচ কাউকে কিছু না জানিয়েই গাছ কেটে ফেলা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এতগুলো গাছ কাটা হয়েছে, সেটা জানতাম না। কোনো অনুমতি ছাড়াই এটা করা হয়েছে। আমরা আগেই বলেছি মাস্টারপ্ল্যান দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্মাণকাজ চলবে না। সেই প্রক্রিয়া এখনও চলমান। শীঘ্রই মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা ওখানে গাছ কাটার অনুমতি দেইনি। নির্মাণ কোম্পানি আমাদের না জানিয়ে কাজ শুরু করেছে।
তবে বিনা অনুমতিতে ঠিকাদারি কোম্পানি কীভাবে কাজ শুরু করল— জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।গাছ কেটে ফেলার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
জাহাঙ্গীরনগর ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি বলেন, উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক কাউকে না জানিয়ে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গাছ কেটে ফেলতে পারে? প্রশাসন ভণ্ডামিপূর্ণ আচরণ করছে। মুখে বলছে মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কাজ হবে না, কিন্তু গোপনে নির্মাণ শুরু করছে। বর্তমান প্রশাসনও আগের প্রশাসনের মতো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন উপেক্ষা করে একই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে।
জাবির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী অরিত্র সাত্তার বলেন, ওই জায়গায় শিয়াল শাবকসহ বাস করতো। জঙ্গল ক্যাট ও ফিশিং ক্যাটের মতো বিরল প্রাণীর উপস্থিতিও ছিল। বনাঞ্চলের সেই শেষ আশ্রয়টুকুও ধ্বংস করা হলো। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
তবে এই বিষয়ে জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক ডেকে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।








