ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্ম নির্ভর কনটেন্ট তদারকি, নিয়ন্ত্রণ এবং এই খাত থেকে রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালা হাইকোর্টে দাখিল করেছে বিটিআরসি ও তথ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
‘ওভার দ্য টপ (ওটিটি) কনটেন্টভিত্তিক পরিষেবা প্রদান, পরিচালনা এবং বিজ্ঞাপন প্রদর্শন’ নামের খসড়া নীতিমালয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নিবন্ধন থেকে শুরু করে কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রে নানা নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া দেশি–বিদেশি মালিকানায় পরিচালিত ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টভিত্তিক পরিষেবা ও বিজ্ঞাপনে যাতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী, রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী না হয় তা নিশ্চিত করে দেশীয় সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার কথা খসড়া নীতিমালয় বলা হয়েছে।
নিষিদ্ধঘোষিত কোনো কনটেন্ট প্রচার করলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ তা অপসারণের নির্দেশ দিতে পারবেন উল্লেখ করে এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংগীত ও পতাকা এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অসম্মান করে এমন কনটেন্ট প্রচার করা যাবে না। এছাড়া শিশুর অংশগ্রহণে যৌনাচার সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট, সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কনটেন্ট, জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করে বা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এমন কনটেন্ট, রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন বা আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো কনটেন্ট এবং সংবাদ ও টক শো প্রচার করা যাবে না। এছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অবনতি হয়, এমন কোনো কনটেন্টও প্রচার করা যাবে না।’
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনৈতিক-আপত্তিকর ভিডিও কনটেন্ট রোধের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ ২০২০ সালে একটি রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি খসড়া নীতিমালা দাখিল করতে নির্দেশ দেন। সে ধারাবাহিকতায় ওটিটি সংক্রান্ত চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালা হাইকোর্টে দাখিল করে বিটিআরসি ও তথ্য মন্ত্রণালয়। এরপর বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। বিটিআরসির পক্ষ আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় শুনানি করেন।
এই নীতিমালার বিষয়ে বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,‘নীতিমালাটি কেবলমাত্র ওটিটি কনটেন্ট নিয়েই নয়, এখানে অন্য সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (ইউটিউব, ফেসবুক, গুগল ইত্যাদি) বিষয়টিও রয়েছে। যার ফলে এসকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্টও নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।’
অন্যদিকে রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘খসড়া নীতিমালাটি পাস এবং এর বাস্তবায়ন হলে দেশি–বিদেশি মালিকানায় পরিচালিত ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে দেশের রাজস্ব আয় হবে। সেই সাথে দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় অশ্লীল কনটেন্ট বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া যাবে।’








