খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর হাতে তুলে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য ঋণ নিয়মিত করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড এবং সংশ্লিষ্ট খাতের সর্বনিম্ন সুদের চেয়ে এক শতাংশ কম হারে সুবিধা পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণ ব্যাংকার–গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুনঃতফসিল করা যাবে। এজন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে এবং আবেদন পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডাউন পেমেন্ট চেক বা অন্য কোনো মাধ্যমে জমা হলে নগদায়নের পর থেকে সময় গণনা হবে। নগদায়নের আগে কোনো আবেদন কার্যকর হবে না। ইতোমধ্যে তিনবার বা তার বেশি পুনঃতফসিল করা ঋণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এক শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিতে হবে।
নতুন নিয়মে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। একাধিক ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রে প্রধান ঋণদাতা ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংকের সম্মতিতে সভা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটিতে আবেদন করতে হবে।
বিশেষ সুবিধা পাওয়া ঋণের বিপরীতে সাধারণ প্রভিশন রাখতে হবে। প্রকৃত আদায় ছাড়া ব্যাংকের আয় খাতে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না, তবে প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য স্থানান্তর করা যাবে। নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার আগে গ্রাহকের আর্থিক অবস্থা ও পূর্ববর্তী লেনদেন যাচাই করতে হবে।
তবে জালিয়াতি, প্রতারণা বা ঘোষিত ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির মাত্রা ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বিবেচনা করে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন বা এক্সিট সুবিধার মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে। এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভায় স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সুবিধা দেওয়ার পর কোনো শর্ত ভঙ্গ হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের সব সুবিধা বাতিল হবে এবং ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ইতোমধ্যে ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরও সরকার পতনের পর ঋণ খেলাপি হার দ্রুত বাড়তে থাকে।








