যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম অ্যালেক্স প্রেটি (৩৭), তিনি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং একজন নার্স। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, প্রেটি তাদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নিহতের পরিবার এই দাবি অস্বীকার করেছে।
রবিবার(২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি এই তথ্য জানায়।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এজেন্টরা অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য একটি বিশেষ অভিযানে ছিল। এ সময়, প্রেটি একটি হ্যান্ডগান নিয়ে এজেন্টদের দিকে এগিয়ে আসেন, আর এরপরই আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, প্রেটির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, বরং তিনি একটি ফোন ধরেছিলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রেটি রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে এজেন্টদের ভিডিও ধারণ করছিলেন, এবং তার পাশে কিছু লোক হইচই করতে থাকেন। এমন সময় এক এজেন্ট তাকে আক্রমণ করে এবং পরে গুলি চালানো হয়।
নিহতের বাবা-মা এই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রশাসন তাদের ছেলের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা বলেন, “আমাদের ছেলের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য। আলেক্স কোনো অস্ত্র ধারণ করেনি। তিনি শুধু ফোন নিয়ে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন।”
এদিকে, মিনিয়াপোলিস পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, প্রেটি সম্ভবত একটি বৈধ অস্ত্রধারী ছিলেন এবং তার কাছে একটি পারমিট ছিল। তবে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার বিস্তারিত জানায়নি, যা স্থানীয় পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজও এ ঘটনা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, “ভিডিও প্রমাণে স্পষ্ট, এটি মিথ্যা। আমাদের কাছে সত্যি প্রমাণ আছে।”
এ ঘটনার পর, মিনিয়াপোলিসে প্রতিবাদ আরো তীব্র হয়েছে, এবং স্থানীয় নেতারা ফেডারেল এজেন্টদের শহর থেকে বের হয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন এজেন্টের হাতে রেনি নিকোল গুডের মৃত্যুর ঘটনার পর ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পুলিশ পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের খবর আসেনি, তবে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণ বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।








