পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ও এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছানের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বুধবার (৭ মে) প্রকল্প এলাকার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়েকশত কর্মকর্তা কর্মচারী। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলেও উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। পরে সংবাদ সম্মেলনে জাহেদুল হাছানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, স্বৈরতন্ত্র ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন বিক্ষুব্ধরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনপিসিবিএলের সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক ফাহিম শাহরিয়ার দাবি করেন, এমডি জাহেদুল হাছান একজন অযোগ্য ব্যক্তি এবং তিনি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছেন। বর্তমানে তিনি একাই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন, যা নজিরবিহীন।
তিনি একইসাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক, এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্টেশন ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। এতগুলো পদে দায়িত্ব পালনের মতো প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তার নেই। স্বৈরাচারী পন্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তা কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, এনপিসিবিএল প্রায় এক দশক আগে গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সার্ভিস রুল বা অর্গানোগ্রাম তৈরি হয়নি। ফলে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন, পদোন্নতি এবং ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এতে জেঁকে বসেছে একগুচ্ছ গ্রেড ও বেতনবৈষম্য। কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে। প্রায় এক হাজার ৮০০ কর্মীর মধ্যে এক হাজার ৫০০ জনের জন্য প্রকল্প এলাকায় ন্যূনতম বসার ব্যবস্থা নেই। শৌচাগার, স্বাস্থ্য ও মানবিক সুব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়নি। এতে করে কর্মীরা প্রতিদিন দুর্ভোগের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার।
কর্মীরা জানান, এই কোম্পানিতে কাজের সময় ন্যায্য কথা বলতে গেলেই চাকরিচ্যুত বা চাকরি ছেড়ে চলে যেতে হয়। এসব কারণে রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেকেই চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সম্প্রতি শতাধিক কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাদের চাকরিচ্যুত করা হলেও গ্র্যাচুইটি, সিপিএফ, অভিজ্ঞতা সনদ, ছাড়পত্র কিছুই দেওয়া হয়নি। তারা চরম হয়রানির মধ্যে পড়েছেন।
কোম্পানির প্রকৌশলীসহ অন্য কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, চালু, পরিচালনাসহ সব কাজে এনপিসিবিএলের মেধাবী, চৌকস, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ জনবল যুক্ত থাকলেও সম্প্রতি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের লোকজন বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ এনসিপিবিএলকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে।
এই অযাচিত হস্তক্ষেপ চরম আকার ধারণ করার জন্য এনসিপিবিএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক জাহেদুল হাসান দায়ী। তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তেরও দাবি করেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা।








