সাউথ আফ্রিকার সামনে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছিল আফগানিস্তান। তবে রসি ফন ডার ডুসেনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আফগানদের সহজেই হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। বাভুমা-ডি ককদের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে সেমির স্বপ্ন ভেঙে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হাসমতউল্লাহ শহিদীর দল।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহিদী। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ওভার শেষে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৪৪ রানের সংগ্রহ গড়েছে আফগানিস্তান। জবাবে নেমে ১৫ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে সাউথ আফ্রিকা।
এ নিয়ে ৯ ম্যাচে ৭ জয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করলো সাউথ আফ্রিকা। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে সেমিতে লড়বে তারা। নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ৯ ম্যাচে চার জয়ে আট পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করলো আফগানরা।
আফগানের দেয়া লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় প্রোটিয়ারা। প্রথম উইকেট জুটিতে আসে ৬৪ রান। ১১তম ওভারের শেষ বলে বাভুমা মুজিব উর রহামান। ২৮ বলে ২৩ রান করেন বাভুমা। ১৪তম ওভারে দ্বিতীয় উইকেট হারায় তারা। কুইন্টন ডি কক ফেরেন ৪৭ বলে ৪১ রানে।
এরপর তিনে নামা রসি ফন ডার ডুসেন একপ্রান্ত আগলে রাখলেও জয়ের বন্দরে পৌঁছার আগে আরও তিন ব্যাটারকে হারায় প্রোটিয়ারা। ২৩.১ ওভারে দলীয় ১১৬ রানে এইডেন মার্করাম ফিরেন ৩২ বলে ২৫ রান করে।
২৮তম ওভারে দলীয় ১৩৯ রানে হেইরিখ ক্লাসেনকে ফেরান রশিদ খান। ১৩ বলে ১০ রান করেন ক্লাসেন। ৩৮তম ওভারে পঞ্চম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। দলীয় ১৮২ রানে ডেভিড মিলার ফেরেন মোহাম্মদ নবীর শিকার হয়ে। ৩৩ বলে ২৪ রান করেন তিনি।
এরপর আন্দিলে ফেলুকোয়ওকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন ডুসেন। ৯৫ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকে ডুসেন, ফেলুকোয়ও করেন ৩৭ বলে ৩৯ রান।
আফগানদের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবী। এছাড়া মুজিব উর রহমান নেন এক উইকেট।
এর আগে ব্যাটে নেমে প্রোটিয়া বোলারদের ভালোভাবেই মোকাবেলা করেছিলেন আফগানদের দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। ৪১ রান তোলেন তারা। নবম ওভারে প্রথম বলে গুরবাজ ফিরে যান ২২ বলে ২৫ রান করে।
পরের দুইওভারে আরও দুই ব্যাটারকে হারায় তারা। জাদরান ফিরে যান ৩০ বলে ১৫ রান করে। হাসমতউল্লাহ ফেরেন ৭ বলে ২ রান করে।
৪৫ রানে তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়া আফগানদের হাল ধরেন রহমত শাহ ও আজমতউল্লাহ। ৪৯ রানের জুটি গড়ে রহমত ফিরে যান ৪৬ বলে ২৬ রান করে।
এরপর ব্যাটারদের আসা যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রাখেন আজমতউল্লাহ। ৭১ বলে তুলে নেন ফিফটি। এরপর নুর আহমেদকে নিয়ে অষ্টম উইকেট জুটিতে ৪৪ রানের জুটি গড়েন। ৪৬তম ওভারে দলীয় ২০৪ রানে নুরকে ফেরান জেরাল্ড কোয়েটজি।
৪৮তম ওভারে মুজিব উর রহমানকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান কোয়েটজি। এরপর সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে আক্ষেপ নিয়ে ইনিংস শেষ করতে হয়েছে আজমতউল্লাহকে। ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ওভারের শেষ বলে রান আউট হন নাভিন উল হক।
প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন জেরাল্ড কোয়েটজি। লুনগি এনগিদি ও কেশব মহারাজ নেন দুটি করে উইকেট। আন্দিলে ফেলুকোয়ও নেন এক উইকেট।








