নদী অধিকার ও পানির ন্যায্য বণ্টনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান নোঙর ট্রাস্টের
বিশ্ব নদী দিবস

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার পানি ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের নদী অধিকার ও আন্তর্জাতিক পানির ন্যায্য বণ্টন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি।
নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ও পানি সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান খোকন।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই নদী রক্ষা শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।
ড. আইনুন নিশাত বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের নীতি অনুসরণ করতে হবে। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি কোনো একক দেশের সম্পদ নয়।
তিনি বলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা ও ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন। তিস্তা নদীসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়েও বাংলাদেশকে তার যৌক্তিক দাবি অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তথ্য বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
নদী দখল, দূষণ ও অবৈধ স্থাপনা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীকে বাঁচাতে হলে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। নদী উদ্ধারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবেশবিদ, গবেষক ও স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পানিসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া, নোঙর ট্রাস্টের উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মসয়ুদ মান্নান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির হোসেন, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকোন এবং সিজিইডির প্রধান নির্বাহী ড. আব্দুল ওয়াহাব।
এ ছাড়া এনভায়রনমেন্ট ইনোভেশন রিসার্চ নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী শাহ ইশরাত আজমেরী, হাওরাঞ্চলবাসীর আহ্বায়ক ড. হালিমদাদ খান ও অগ্রযাত্রায় নারী ফোরামের আহ্বায়ক জাকিয়া শিশিরসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, পানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নদী অধিকার, আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা ও পানি নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের মধ্য দিয়ে সভাটি শেষ হয়।






