অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের ‘দেশের গর্বিত সন্তান’ অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, এখনও তারা দেশেই আছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও তারা অংশ নেবেন।
নির্বাচনের পরপরই উপদেষ্টাদের দেশ ছাড়ার আলোচনার মধ্যে রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন প্রেস সচিব। উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকের খবর জানাতে তিনি এই ব্রিফিংয়ে এসেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব হঠাৎ করেই শুক্রবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জার্মানির উদ্দেশে রওন হন। এরপর তার দেশছাড়ার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসতে থাকে।
পরে ফেইসবুকে তিনি দাবি করেন, কর্মস্থল থেকে ‘যথাযথভাবে’ বিদায় নিয়েই তিনি ঢাকা ছেড়েছেন। উপদেষ্টারাও তার মত দেশ ছাড়ছেন কিনা, বা তারা থাকলে তাদের দায়িত্ব কীভাবে শেষ হবে–সেই প্রশ্ন রাখা হয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের সামনে।
জবাবে শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টারা শপথের দিন থাকবেন। তারা জয়েন করবেন এবং শপথের দিন তারা ফ্ল্যাগবাহী গাড়িতে যাবেন। যাওয়ার পরে যখন শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে, আসার সময় তারা ওই গাড়ি তাদেরকে তাদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু ওখানে আর ফ্ল্যাগ থাকবে না।
তার ভাষ্য, তারা সবাই দেশেই আছেন। তারা দেশের গর্বিত সন্তান। দেশের সামনের ফিউচারে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে তারা তাদের সর্বোচ্চ এফোর্টস দেবেন।
তৈয়্যব কেন দেশ ছেড়েছেন–সেই প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারীর বক্তব্যের বাইরে নতুন কিছু যুক্ত করতে চান না বলে বলে জানান শফিকুল আলম।
শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ১৭ তারিখে শপথ। ১০টার দিকে শপথ হবে এমপিদের। এটা জাতীয় সংসদে। ৪টার দিকে জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় কেবিনেট মানে ইনকামিং প্রাইম মিনিস্টার এবং উনার কেবিনেট শপথ গ্রহণ করবে।
এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কাতার এবং সার্কভুক্ত সাতটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলে প্রেস সচিব তথ্য দেন।
এছাড়া শপথ অনুষ্ঠান যেন ‘সুন্দর’ হয়, সেজন্য বিএনপির তিন সদসের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোববার বৈঠক করার কথা বলেন প্রেস সচিব।
তিনি জানান, এদিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন কর্মসূচি ছিল। সেখানে উপদেষ্টাসহ সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, সদ্য বিদায়ী মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘মহাসাফল্য’ হিসেবে দেখছেন জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ” কেবিনেটে আজকে যেটা বলা হয় যে, এই ইলেকশনটা অনেক দিক দিয়েই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। একটা বড় বিষয় সবাই যেটা তুলে ধরেছেন যে, এটা এমন একটা ইলেকশন হয়েছে, যেখানে ফর দ্য ফার্স্ট টাইম আমরা ভালো একটা অপজিশনকে দেখতে পাব।
যেই অপজিশনে থাকছে আপনারা জানেন যারা গুম খুনের যারা শিকার হয়েছেন, তারা থাকছেন, যারা জুলাই রেভোলিউশনের সাথে সম্মুখ সারিতে ছিলেন তারা থাকছেন এবং পুরো বাংলাদেশের সোসাইটির একটা ব্রড বেজ একটা রিপ্রেজেন্টেশন হয়েছে।
এ নির্বাচনে প্রথমবারের মত ‘রিলিজিয়াস মাইনোরিটির ওপর কোনো হামলা হয়নি’ বলে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়।
শফিকুল বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে পুলিশ তার ‘আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে’ বলেও উপদেষ্টা পরিষদের পর্যবেক্ষণ এসেছে।
আর আজকের বৈঠকে বলা হয় যে এই ইলেকশনটায় সবচাইতে কম ভায়োলেন্স হয়েছে। এর আগে সেই ১৯৯১ সালে এরশাদের পতনের পরে যে ইলেকশনটা হয়েছিল, সেটাকে সো ফার বলা হত যে সবচেয়ে ভালো ইলেকশন। সেই ইলেকশনে ৮৭টা কেন্দ্রে ভায়োলেন্স হয়েছিল। এবার যেটা হয়েছে খুবই মার্জিনাল, খুবই কম।
প্রেস সচিব বলেন, হোম অ্যাডভাইজার তার বক্তৃতায় বলেন, ইলেকশনের পরে চারজনের মৃত্যুর কথা শোনা যাচ্ছে, তার মধ্যে সত্যিকার অর্থে ইলেকশন রিলেটেড ভায়োলেন্সে মারা গিয়েছেন একজন। আর হাতিয়ার বিষয়ে উনি বলেন যে, এ বিষয়ে একটা তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হচ্ছে, তারা এ বিষয়টা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখবে, ইনভেস্টিগেট করবে।








