পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ কে হালনাগাদ করে গত ২৪ নভেম্বর তারিখে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ জারি করা হয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৩০মিনিটে হালনাগাদকৃত বিধিমালা সম্পর্কে অবহিতকরণের জন্য, পরিবেশ অধিদপ্তর অডিটোরিয়ামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর ৬০ ট্রাফিক সার্জেন্ট, বিআরটিএ এর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সম্পন্ন ৫ কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সম্পন্ন ১০ কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এবং সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এনডিসি।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ট্রাফিক সার্জেন্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা আপনাদের সাথে নিয়ে ভলান্টিয়ারদের সম্পৃক্ত করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পেইন শুরু করবো। কয়েকটি নীরব এলাকাকে এবার আমরা শব্দদূষণমুক্ত করতে চাই। আমরা আপনাদের সাথে বসে কয়েকটি জায়গা ঠিক করে ক্যাম্পেইন এবং এনফোর্সমেন্ট একসাথে করবো। তার আগে গণমাধ্যমে এই শব্দদূষণের ব্যপারে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে সেটাও আমরা শুরু করবো।
তিনি আরও বলেন, জানুয়ারী মাসে আমরা হর্নের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সচেতনতা, একসাথে পরিচালনাসহ এটা চলমান রাখতে হবে। আমাদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে, সেটা একদিনে হবেনা কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। হর্নের উপদ্রুপটা যদি কমে তাহলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যাবে।
প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কর্মশালায় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার উপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থান করে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ১ শত ৫ জন এই জনবল দিয়ে, দুই কোটি মানুষের ঢাকা শহরকে ট্রাফিকিং করা খুবই চ্যালেঞ্জিং কিন্তু তারপরও ডিএমপির ট্রাফিক সদস্যগণ নিরলসভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই বিধিমালায় যেহেতু ট্রাফিক সার্জেন্টদেরকে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোতে ৯শত ৮০জন ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে তাদের দিয়ে শব্দদূষণ নিয়ণ্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, পরিবেশর সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিকে আমাদের সবার চর্চার মধ্যে আনতে হবে। একটু একটু করে, করতে থাকলে একদিন নিশ্চয়ই একটা ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
বিগত থার্টিফার্ষ্ট নাইটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের আতশবাজি বা শব্দদূষণ না করায় বিশেষ অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়কে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে প্রকল্পের পক্ষ থেকে ৫০টি সাউন্ড লেভেল মিটার প্রদান করা হয় তারই অংশ হিসেবে একটি সাউন্ড মিটার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব মোঃ আনিছুর রহমানের হাতে তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।








