ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে এই যুদ্ধে ব্যয় মেটাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হেগসেথ সরাসরি অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করেননি, তবে ইঙ্গিত দেন যে এ সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে। তিনি বলেন, ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি পরিবর্তিত হতে পারে। খারাপ লোকদের মোকাবিলা করতে অর্থ লাগে। আমরা কংগ্রেসে যাচ্ছি, যাতে অতীত ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে যথাযথ অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়।
সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর হোয়াইট হাউসের কাছে এই অর্থের অনুরোধ জানিয়েছে।
এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ইতোমধ্যে গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর করছাড় বিলের আওতায় পাওয়া অতিরিক্ত বরাদ্দের বাইরেও চাওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়া যাবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।
হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চাই না। আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি এবং কখন এই অভিযান শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও যোগ করেন, প্রয়োজনীয় লক্ষ্য অর্জিত হলে প্রেসিডেন্টই যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত দেবেন।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানে ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং বৃহস্পতিবারই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় আক্রমণ অভিযান।
তবে এখনও কংগ্রেস এই যুদ্ধ অনুমোদন দেয়নি। যুদ্ধের ব্যাপ্তি ও কৌশল নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্টের দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করলেও, দলের অনেক রক্ষণশীল সদস্য বড় ধরনের সামরিক ব্যয়ে অনাগ্রহী।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তদারকি উপকমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট বেটি ম্যাককলাম জানিয়েছেন, যুদ্ধের বিস্তারিত কৌশল না জানা পর্যন্ত নতুন অর্থ অনুমোদনের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন না। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কোনো রাবার স্ট্যাম্প হবে না।
বর্তমান অর্থবছরে কংগ্রেস পেন্টাগনের জন্য ৮০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি গত বছরের করছাড় বিলের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত দেওয়া হয়।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইছি-এর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু ইরান নয়, আরও নানা কারণে আমরা এই অর্থ চাইছি। বিশ্ব এখন অত্যন্ত অস্থিতিশীল।
ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নীতিকে দায়ী করে বলেন, ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে গেছে। তিনি বলেন, আমরা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রাখতে চাই।
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন, আমি তা সমর্থন করি।
একই ব্রিফিংয়ে শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ড্যান কেইন জানান, ইরান ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান হরমুজ প্রণালিতে দ্রুতগতির নৌযান ধ্বংসে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিপুল ব্যয়, অনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং কৌশলগত অস্পষ্টতা ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।








